সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


আমাকে আহমদ শফী সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয় না -ফরীদ উদ্দীন মাসউদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। একজন লেখক, সাহিত্যিক, চিন্ত্যক। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রায়ই সাহসী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝড় তোলেন, যা আলোচনার পাশাপাশি প্রায়শই বিতর্কও সৃষ্টি করে। এ থেকে মনে হতে পারে বাঙালি আদতেই একটা ‘বিতর্কপ্রিয় জাতি’। আসলে তা নয় বরং বাঙালি বিনা-বিশ্লেষণে কোনো কিছুই মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। বাঙালি একটি জ্ঞানপ্রিয় জাতি। তাদের জ্ঞান ও চিন্তার খোরাক যোগাতে সময়ে সময়ে যে ক’জন মানুষ উদিত হন, এদেরই একজন তিনি। তার বক্তব্যে চিন্তা ও ভাবগাম্ভীর্যের একটা ছাপ থাকে। প্রশ্নের মুখে কখনো অনর্গল বলে যান, আবার কখনো কপালে চিন্তার ভাজ পড়ে। একান্তে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির মাহদিন।

জাকির মাহদিন : মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি দিতে সম্প্রতি সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেটা আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে বেফাক প্রত্যাখ্যান করেছে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ : হযরত আল্লামা আহমদ শফীকে সবাই শ্রদ্ধা করেন। আমিও অবশ্যই অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। আমি এটা প্রায়ই বলি এবং অন্তর থেকেই বলি, আল্লামা আহমদ শফীর পায়ের সমতুল্য আমার মাথাও না। তিনি শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর সংসর্গে ছিলেন। আমার বিশ্বাস, মাদানী রহ. এর সংসর্গে যারা ছিলেন তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা আখেরাতে অপমান করবেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই সেদিন বেফাকের কোনো মিটিং হয়েছে কি না। কারণ বেফাকের শুরা এবং আমেলার সব সদস্য মিলিয়ে প্রায় দেড়শত জন সদস্য। এদের ক’জন উপস্থিত হয়েছেন, কোরাম পূর্ণ হয়েছে কি না, এটাকে মিটিং বলা যাবে কি না, নিয়মমাফিক পূর্ব-নোটিশ দেয়া হয়েছে কি না, অনেক প্রশ্ন। আমার মাদরাসাও বেফাক সংশিষ্ট। আমার মনে হয় এটা আহমদ শফী সাহেবের নাম ব্যবহার করে কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি এই ‘কথিত প্রত্যাখ্যান’ চাপিয়ে দিয়েছেন।

জাকির মাহদিন : আহমদ শফী সাহেব মিটিংয়ের আগেই শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে অবহিত এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সবার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তিনি নিজেই নেন- এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত নন?

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ : এটা কেবল আমার প্রশ্ন না, সারা বাংলাদেশের আলেমসমাজই বলছেন হুজুর অনেক সময় যেসব কথা বলেন তা আমাদের কাছে বিকৃত ও পরিবর্তিত করে উপস্থাপন করা হয়। তাই আসলে তিনি কী বলেছেন আমরা বুঝতে পারি না।