মাওলানা কাজী ফজলুল করিম। বাংলাদেশের অন্যতম একজন আলেমে দীন। বগুড়ার জামেয়া আরাবিয়া শামসুল উলুম (কারবালা) মাদরাসার শাইখুল হাদিস। লেখক এবং গবেষক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতি বিষয়ক চলমান বিতর্ক বিষয়ে এবং কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতি বিষয়ক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আওয়ার ইসলামের পক্ষ থেকে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন সালাহুদ্দীন মাসউদ ও ইশতিয়াক আহমাদ।
আওয়ার ইসলাম : বর্তমান সরকার কওমী মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করতে চান এবং এ ব্যাপারে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত নীতিমালা ও আইনের খসড়া মন্ত্রীসভায় পেশ করা হবে। স্বীকৃতি বিষয়ে উলামায়েকেরামের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা, আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এক বোর্ড-কয়েক বোর্ড নানারকম আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
মাওলানা কাজী ফজলুল করিম : সনদের ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হলো আদর্শিক আরেকটি হলো বাস্তবতা বা বর্তমান প্রেক্ষাপট।
আদর্শিক সনদের বিষয়ে আমার কথা হলো, এই সনদ আল্লাহ তায়ালা এবং সাধারণ মানুষ আমাদেরকে দিয়েই রেখেছেন। প্রায় দুইশত বছর যাবৎ আমাদের কওমী ধারার মাদরাসাগুলো জনগণের সাহায্য সহযোগিতা, দুআ ও অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং স্বীকৃতি আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণ আমাদের সহযোগিতায় অর্থ দিয়ে থাকে, আমাদের মাদরাসার জন্য জায়গা দান করে, তাদের সন্তানকে আমাদের কাছে মানুষ বানানোর জন্য পাঠায়। এটিই আমাদের আমাদের মৌলিক বিষয় এবং মৌলিক সনদ। গোটা বিশ্বের মুসলমানরা তাদের ভালবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাদের উজ্জীবিত রেখেছেন, তারা হচ্ছে দারুল উলুম দেওবন্দের উত্তরসুরী মানে কওমী মাদরাসা। এক্ষেত্রে অর্থাৎ আমাদের আদর্শিক ব্যাপারকে পাশ কাটিয়ে সরকার তারা যে দলেরই হোক না কেন, আমাদের স্বীকৃতি দিতে চায়, তাহলে আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখান করবো। কোনো সরকারের কাছে আমরা আদর্শিক স্বীকৃতির ব্যাপারে মুখাপেক্ষী নই।
দ্à