
মাওলানা আবু হুরায়রা
নামাজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। প্রতিটি মুসলিম বালেগ সুস্থ মানুষকে পাঁচবার আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের অল্প জানা বা না জানার কারণে ভুল করে থাকি। সতর্ক হলে যা খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আসুন দেখে নেই ৮ টি মারাত্মক ভুল।
তাড়াহুড়া করে অজু করা
অজুতে হাড়াহুড়া করা অনেকেরই অভ্যাস হয়ে গেছে। যা ভুল। কারণ অজু পূর্ণাঙ্গ না হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। অজুতে চারটি ফরজ রয়েছে। মুখমন্ডল ধোয়া, উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা এবং উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া। এগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। হাত-পা, মুখমন্ডলের নির্দিষ্ট স্থানে পানি পৌঁছাতে হবে। কোনো জায়গা শুকনো থাকলে অজু হবে না। তাই তাড়াহুড়া করে অজু না করা ভালো। অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পড়া যেতে পারে। হাদিসে এসেছে, মহানবী সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়। সে ইচ্ছা করলে এর যে কোনো দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করতে পারবে।’ -মুসলিম শরিফ
নামাজের জন্য দৌড়ে যাওয়া
অনেকেই নামাজের জন্য মসজিদে দৌড়ে যান। অনেকে নামাজে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে কাতারে দাঁড়িয়ে যান। এই হাঁপানো অবস্থাতেই এক রাকাতের মতো চলে যায়। এটা আল্লাহর রাসূল সা. পছন্দ করেননি। তিনি নিষেধ করেছেন। আপনি হয় সময় নিয়ে নামাজ পড়তে যাবেন অথবা ধিরস্থির ও শান্তভাবে হেঁটে গিয়ে যতটুকু জামাতে শরিক হতে পারেন হবেন এবং বাকি নামাজ নিজে শেষ করবেন।
হজরত আবু কাতাদা রা. বর্ণনা করেন, একবার আমরা নবী সা.-এর সঙ্গে নামাজ পড়ছিলাম, নামাজরত অবস্থায় তিনি লোকের ছুটাছুটির শব্দ অনুভব করলেন। নামাজা শেষে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি করছিলে? তারা আরজ করল, ‘আমরা নামাজের জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলাম। আল্লাহর রাসূল সা. বললেন, এরূপ কখনো করো না। শান্তিশৃঙ্খলা ও ধীরস্থিরভাবে নামাজের জন্য আসবে, তাতে যে কয় রাকাত ইমামের সঙ্গে পাবে পড়ে নেবে, আর যা ছুটে যায় তা ইমামের নামাজের পর পুরা করে নেবে।’ -বোখারি শরীফ, খ–১, হাদিস নম্বর- ৩৮৭
এই হাদিসে রাসূল সা. নামাজে আসার এবং নামাজে শামিল হওয়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বলে দিয়েছেন যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে ধিরস্থিরভাবে হেঁটে মসজিদে আসতে হবে, কোনো তাড়াহুড়া করা যাবে না।