সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


দেশত্যাগ ছাড়া পথ নেই রোহিঙ্গাদের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কুতুপালং উখিয়া থেকে  রোকন রাইয়ান

unnamedমিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর কেমন নির্যাতন চলছে জানতে চাইলে মাস খানেক আগে মংডু থেকে পালিয়ে আসা নূর আজিজ বললেন ‘এহানো কোনো মানুষ ন থাকবার পারি’।

আধো আধো বাংলা জানেন তিনি। তবে সেটাও চাটগায়ের ভাষা। বুঝতে সহযোগিতা করলেন স্থানীয় রাহবার আবদুল্লাহ।

নূর আজিজ একজন আলেম। আরাকানের এক দাওরায়ে হাদিস মাদরাসায় হাদিসের কিতাব পড়াতেন। তার গল্প আরেকদিন বলা যাবে। আজ মিয়ানমারের মুসলিম নির্যাতন বিষয়ে জানা যাক।

আরাকানের কিছু ছবি ও ভিডিও চিত্রে আমরা দেখেছি বিভৎস দৃশ্য, গলা কাটা লাশ, কোথাও মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, এসব ঘটনা কি ছহি? শুনে নূর আজিজ বললেন, আপনারা যা দেখছেন তা সামান্যই। আরাকানে এর চেয়ে ভায়াবহ নির্যাতন চলছে। পুরষদের দেখলেই গুলি করা হচ্ছে। নারীদের ধরে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ পরে হত্যা করে রেখে যাচ্ছে। আবার বহু তরুণীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যারা আর কখনো ফিরে আসছে না।

নূর আজিজের কণ্ঠ ভেজা। সোনালি সেই দিনের কথা স্মরণ করে কেদেই দিলেন তিনি। আপনারা কী শুনতে চান, আমাদের অস্তিত্বই তো আর সেখানে থাকল না। মুসলিমরা তাদের ভয়াবহ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলে আসছে বাংলাদেশে। চলে আসা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই। আমরা আমাদের দেশ হারালাম এর চেয়ে ভয়াবহ দৃষ্টান্ত তো আর নেই।

নির্যাতিতরা কেন প্রতিরোধ করতে পারছে না জানতে চাইলে নূর আজিজ বলেন, কিভাবে পারবে তাদের তো কোনো অস্ত্র নেই। আরাকানে মুসলিম পরিবারগুলোতে প্রতিদিন তল্লাশি হয়। সেখানে পেয়াজ কাটার জন্য ছুড়িও বাড়িতে রাখা নিষেধ। কোথাও দা খন্তি পেলে সাথে সাথে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ৯ অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের আরাকানে এই দাঙ্গা চলছে। সেখানকার স্থানীয় বৌদ্ধদের পাশাপাশি মগরা (মিয়ানমারের সেনাবাহিনী) এই দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের নির্যাতন এতটাই পৈশাচিক ওখানে থাকার মতো অবস্থা নেই। গ্রামের পর পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। পুরুষদের ফায়ার করছে পুলিশ। এই চিত্র পুরো আরাকানের।

উপায় না দেখে গত কিছুদিন ধরে নির্যাতিত এসব মানুষ প্রাণ বাঁচানোর আশায় ছুটে আসছেন বাংলাদেশে। সীমান্তে বিজ