
সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর
আমার বয়স তখন কতো হবে? বড়জোর আট-নয়। স্কুলে পড়ি। কোন ক্লাস, মনে নেই। থ্রি বা ফোর কিছু একটা হবে।
একদিন ফুটবল কেনার জন্য কয়েকটা টাকার ভীষণ প্রয়োজন পড়ে গেলো। বেশি না, সাকুল্যে ২০ টাকা। স্কুলে শুনতাম— ক্লাসের অনেকেই নাকি ওদের আব্বাদের পকেট থেকে হেব্বি টাকা মেরে দেয়। কেউ কেউ নাকি ঘরের গোলা থেকে ধান বা চালও পাচার করে বাজারে বিক্রি করে! সিস্টেম আছে।
সঙ্গত কারণে এমন একটা সরল ও সহজ পন্থা আমারও গ্রহণ করার তাগিদ অনুভব করলাম।
এদিকে আবার অন্য চিন্তা আছে— আব্বার যে পরিমাণ রাগ, যদি একবার ধরা খাই... এক থাপ্পড়ে মুতিয়ে ফেলবে। গ্রামের অনেক ছেলে আব্বার হাতের থাপ্পড় খেয়ে লুঙ্গি ভিজিয়ে ফেলার রেকর্ড আছে। সুতরাং সাধু সাবধান!
কিন্তু আমার ভেতরে কৌতূহল বেশ তাতিয়ে উঠেছে— আব্বার মানিব্যাগ থেকে টাকা নেয়া, এ তো যেনতেন কাজ নয়। বিকেলবেলা আলগোছে তোষকের তলে রাখা আব্বার মানিব্যাগ থেকে পাট আর কৃষকের ছবিওয়ালা একটা ২০ টাকার নোট আত্মসাৎ করে ফেললাম।
হায়! এই সুখ আমার কপালে বেশিক্ষণ সইলো না। মা কীভাবে যেনো আঁচ করে ফেললেন— সামওয়ান আত্মসাৎ টুয়েন্টি টাকা ফ্রম আব্বা'স মানিব্যাগ!
বড়আপা ছোটআপা দুজনই স্কুলে। সন্দেহের তীর তো তীর, সন্দেহের ধনুক সুদ্ধ আমার দিকে এসে পড়লো। মা আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি প্রবল প্রতাপের সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে সরাসরি ইনকার করলাম।
কিন্তু মা তো আমার চোখের নাচন দেখেই বুঝে ফেলেছে— তুই আইজকা শ্যাষ! আর যাবি কোথায়? ক্যাক করে আমাকে ধরে ফেললো। গালে-পিঠে দু-চারটে পড়তে দেরি হলো না।
আমি রাগে-দুঃখে-লজ্জায় গম ক্ষেত অভিমুখে দৌড়ে পালালাম। জগৎ-সংসার ছেড়ে আত্মগোপন। বন থাকলে বনে গিয়ে বনবাস নিতাম। বন না থাকায় একমাত্র ভরসা বাড়ির পাশের গম ক্ষেত। আপাতত ক্ষেতবাস!
যদিও ক্ষেতবাসের স্থায়িত্ব এক ঘণ্টার বেশি দীর্ঘ হলো না। ঘণ্টাখানেক পর দেখি মা আর ছোটআপা আমাকে খুঁজতে খুঁজতে ক্ষেতের দিকে চলে এসেছে। ছোটআপার চোখভরা জল। মায়ের চোখেও পানি।
এমন ইমোশনাল সিকোয়েন্সের পর বৈরাগ্য সাধনের কোনো মানেই হয় না। প্রিয়জনের চোখের জলের সামনে বৈরাগ্য কি, স্বর্গসাধনাও ভঙ্গ করা যায়। সবাই তো আর গৌতম বুদ্ধের মতো পাষাণ হৃদয়ের বৈরাগী না!
যাকগে, যে কথা বলতে চাচ্ছি—
আর্মির লোক থাকার কারণে আব্বার নীতি-নৈতিকতার টেম্পারেচার স