۞ আফিফা মারজানা

দুইহাজার তিন সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস সারা পৃথিবীর সর্বকালের সবচে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি তালিকা তৈরি করলো। তালিকার তিন নম্বরে উঠে আসলো একটি উর্দূ গান। `দিল দিল পাকিস্তান' শিরোনামের সেই গানটির জনপ্রিয় শিল্পী অবিশ্বাস্য খ্যাতি যশ ও জনপ্রিয়তার চূড়োয় অবস্থানকালে তারচেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে তার তিনবছর পর গানকে বিদায় জানিয়েছেন আনুষ্ঠানিকভাবে।
তারপর। তার জীবনে নেমে এলো পরীক্ষা। অার্থিক অনটন। তাঁর ভাষায়- `ইতোমধ্যে আমার ঈমানি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। বেতন দিতে না পারার কারণে ছেলে-মেয়েকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনলাম। গাড়িটা বিক্রি করে দিলাম। এক সময় বাড়িও বিক্রি করে দিলাম। এরপর নগদ টাকা যা ছিল, তা দ্রুত শেষ হয়ে আসতে লাগলো। সর্বশেষ যেদিন আমার পকেটে ১০০ টাকা ছিল, সেদিন স্ত্রীর হাতে টাকাটা তুলে দিয়ে বললাম, এই আমার শেষ সম্বল! কাল থেকে সংসার কিভাবে চলবে, তা আমি জানি না। তুমি আমার কাছে কোন টাকা-পয়সা চাইবে না।’
এরপর এলো প্রলোভনের হাতছানি। তাও উতরে গেলেন। তিনি বলেন, ‘শয়তান কিন্তু বসে থাকল না। আমার সংকল্প থেকে আমাকে টলাবার জন্য বিভিন্নভাবে সে জাল ফেলতে লাগলো। বড় বড় অফার আসতে লাগলো। একটা মাত্র গান গাওয়ার জন্য, একটা মাত্র শোতে অংশ নেয়ার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রস্তাব আসতে লাগলো। কিন্তু আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে সব লোভ ত্যাগ করলাম।’
১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়াল পিন্ডিতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ছোটভাইয়ের কেনা শখের গিটারে টুংটাং করতে করতে একসময় নিজেই হয়ে গান গিটারিস্ট ও গায়ক। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ফাঁকে ফাঁকে স্থানীয় ক্যাম্পাসগুলোতে গেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন।
এখন। সারা পৃথিবীর আল্লাহ ও রাসূলপ্রেমী মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার গান। সত্য সুন্দর ও শুদ্ধতার সুর তিনি ছড়িয়ে গেছেন আমৃত্যু। তিনি বলেছিলেন, ‘এখন বাজারে আমার ইসলামি গজলের অনেক এলবাম ছড়িয়ে গিয়েছে। আমার মৃত্যুর পরেও এগুলো মানুষের মুখে মুখে জারি থাকবে।’
হ্যাঁ, তিনি মারা গেছেন। কিন্তু মাশরিক থেকে মাগরিব তক রয়ে গেছে তাঁর পবিত্র সুরের ঝংকার। যুগে যুগে মানুষ গাইবে- মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা মেরে মুহাম্মাদ কা নাম...। তিনি জুনাইদ জামশেদ। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়াল পিন্ডিতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ছোটভাইয়ের কেনা শখের গিটারে টুংটাং করতে করতে একসময় নিজেই হয়ে গান গিটারিস্ট ও গায়ক। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ফাঁকে ফাঁকে স্থানীয় ক্যাম্পাসগুলোতে গেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন।