ওয়ালিউল্লাহ সিরাজ
প্রতিবেদক, আওয়ার ইসলাম

মানুষকে কেবল কুরআন শিক্ষা দিয়েই যিনি বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তিনি উস্তাদ নোমান আলী খান। কুআনের চমৎকার শৈল্পিক সৌন্দর্য উপস্থাপনার জন্য তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের কাছে বনে গেছেন এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের অগণিত মুসলিম তরুণ আজ তাঁকে আইডল হিসাবে কল্পনা করেন।
নোমান আলী খান জন্মগ্রহণ করেন জার্মানির রাজধানী বার্লিন শহরে। তাঁর মাতৃভাষা জার্মানি। কিন্তু শিশু নোমান সেখানে ছয় মাসও থাকেননি। তাঁর বাবা পাকিস্তান দূতাবাসে কাজ করতেন বলে পরিবারসহ ছয় মাস বয়সে তাঁকে পাকিস্তানে চলে আসতে হয়। এখানেও তাঁর পরিবার দুমাসের বেশি থাকেননি; চলে যান সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে।
তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় রিয়াদে, একটি পাকিস্তানি উর্দু মিডিয়াম স্কুলে। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছয় বছর তাঁর পরিবার রিয়াদে অবস্থান করেন। এরপর তাঁরা চলে যান আমেরিকায়। সেখানে তিনি খ্রিস্টানদের পরিচালিত একটি হাইস্কুলে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর বন্ধুদের আচার-আচরণের মধ্যে নৈতিকতা ও ধর্মের কোনো ছোঁয়া ছিল না। ফলে তিনিও ধীরে ধীরে তাঁদের আচার-আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁকে বাধা দেয়ার কেউ ছিল না; এমনকি তাঁর পরিবারও না।
একসময় তাঁর মাঝে প্রবল অপরাধবোধ জেগে উঠে। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। হয় তাঁকে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে, না হয় স্কুল ত্যাগ করতে হবে। দুর্ভাগ্য, অন্য কোথাও ভালো স্কুল নেই বলে পরিবার তাঁকে স্কুল ত্যাগ করতে দিল না।
স্কুল শেষে তিনি কলেজে ভর্তি হলেন। আগের মতই বন্ধুদের সাথে চলাফেরা, সবকিছু। এবার তিনি অবিশ্বাসীও হতে শুরু করলেন। প্রায় দুবছর তিনি নাস্তিকতার চর্চা করেন। ইসলাম থেকে তখন তিনি অনেক অনেক দূরে।

তারপর অলৌকিক এক ক্ষমতায় নোমান আলী খান ইসলামে ফিরে এলেন আগের চেয়ে শতগুণ গতিতে। তিনি আমেরিকান মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন ভর্তি হওয়ার পর সেখানকার দুজন সদস্যের প্রচেষ্টায় আবার ইসলামে ফিরে আসেন। তখন তিনি ভালোভাবে কুরআন বোঝার জন্যে গুগল সার্চ করতে লাগলেন। ইন্টারনেটে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রচুর লেকচার পেলেন। কিন্তু কুআনের ধারাবাহিক কোনো আলোচনা তখনো তিনি পাননি।
কুরআনের