
© আবদুল্লাহ আল ফাহিম
গল্পের শুরু
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তবে আকাশ তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ বৃষ্টি দেখে হচকচিয়ে গেলো সুহিন। এমন বৃষ্টিতে এক কাপ কফি না হোক; চা হলেও চলে অন্তত। শীত শীত আবহাওয়ায় শীতল তাপমাত্রায় আগুনগরম কাপ স্পর্শ করে ধোঁয়া ওঠা চা, ভাবতেই রোমাঞ্চ অনুভূত হচ্ছে। তাই মুখে পানির হালকা ঝাপটা মেরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরুলো সে। আর যথারীতি থামলো, বিখ্যাত "আজরফ টি-স্টল" এর সামনে। এ টি-স্টল নিয়ে এক বিখ্যাত তরুণ লেখকের গল্প লেখার পর বেশ নাম হয়েছে এর। যদিও লেখকের বর্ণনার সাথে অমিল ঘোষণা করতেই হয়তো এখানে বুড়ো মানুষদের আড্ডা জমে থাকে সারাদিন।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে দিনের প্রথমবারের মত গুষ্টি উদ্ধার করলো প্রিন্সিপাল এর। ভাগ্য খারাপ থাকলে আরো কয়েকবার করতে হবে এ জঘন্য কাজ। করবেই না বা কেনো?
সাতটা বাজে কোন কলেজে ক্লাস শুরু হতে পারে, এখানে না এলে কল্পনাই করতে পারতো না সুহিন।
প্রমাণসাইজের মগভর্তি চা খেয়ে উঠে পড়লো সে। বিল দেওয়ার ফালতু ঝামেলায় পড়তে হয়না তাকে। নিজস্ব একটা মগ দেওয়ার পর মাসের শুরুতে টাকা দিয়ে দিলেই প্রতি সকালে একমগ বা চলতি কাপের আড়াই কাপ চা বানিয়েই রাখে আজরফ মিয়া। হাতঘড়ি দেখেই চোখটা বন্ধ করে ফেললো সুহিন, আজও কপালে খারাপি আছে।
২
"রোল কত তোমার?"
চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন 'রসখেঁকো' খ্যাত রসায়ন স্যার।
কাঁচুমাচু হয়ে উত্তর দিলো সুহিন,
"২০১, স্যার।"
স্যারের সামনে ভীতু ভীতু ভাব নিয়েই থাকতে হবে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বকুনিই শুনতে চায় বা কে?
আরো কিছু অস্কারজয়ী অভিনয় করে অবশেষে ক্লাসে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া গেলো। শেষ বেঞ্চের জানালার পাশের সিটটা ছাড়া আর কোন সিট খালি নেই। অগত্যা বাধ্য হয়েই বসতে হলো তিনতলার ক্লাসরুমের জানালার পাশে।
পেছনে বসার শোকে হতাশ হয়ে ঘাড় ফেরাতেই দৃষ্টি আটকে গেলো সুহিনের। তিনতলার জানালা থেকে পাশের গার্লস ক্যাম্পাসের নিচতলা ছাড়া আর কোন সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়না। সুন্দর কারণ, ক্লাস থ্রি'র বাচ্চা-পিচ্চি; কিউট-এঞ্জেল মেয়েগুলো ঠিক বাগানের ফোটা ফুলের মতোই লাগে সুহিনের। কিন্তু আজ তাতে চোখ আটকেনি তার। চোখ আটকেছে প্রজাপতি দেখে!
মেয়েটার হাত নাড়ার ভঙ্গি দেখে প্রজাপতির ডানার কথা ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারছে না সুহিন, তুলনা দেওয়ার জন্য। কিন্তু স্ব-বয়সী প্রজাপতি থ্রি'র ফুলবাগানের পরিচর্যার দায়িত্বে কিভাবে আসলো?
"টু হান্ড্রেড ওয়ান।"
"টু হান্ড্রেড ওয়ান কি আছে?"
বেঞ্চমেটের ধাক্কায় 'রসখেঁকো'র কর্কশ কন্ঠটা কানে আসলো সুহিনের।
মাথা নিচু করে দিনের দ্বিতীয়বারের মতো গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো স্যারের।
তিন মিনিট পর, মেয়েটার চেহারা বুঝা যাচ্ছে না। কিন্তু অবয়বটাà¦