সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


মদ ও জুয়া; মুমেন বান্দাকে আটকাতে শয়তানের ছড়ানো জাল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা আবু দারদা
শিক্ষক; ফয়জুল উলুম মাদরাসা চাঁদপুর

madok_mod_sigaretমাদকতা একটি অভিশাপ।মাদকতা ব্যক্তির প্রতিভা বিকাশ ও সমাজের উন্নয়নের পথে অন্তরায়। মাদকদ্রব্য সেবনে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়।

নেশার জগতে পা বাড়ালে প্রতিভারা ক্ষয়ে-ক্ষয়ে ক্রমশ ঘৃণিত ও অচ্ছূৎ হয়ে যায়। মাদকাসক্তি কেড়ে নেয় মার্জিত ব্যক্তির সামাজিক বন্ধন ও সম্মান। ধ্বংস করে স্বাস্থ্য ও সম্পদ।নেশার অনিষ্ট থেকে উম্মতকে বাঁচাতে প্রিয় নবি সা. পর্যায়ক্রমে মদ পানকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। নেশার অনিষ্ট সম্পর্কে জানিয়েছেন উম্মতকে।

হাদিসে এসেছে মাদকতাকে ‘না’ বলার নির্দেশ। কুরআনে এসেছে নেশার অনিষ্টের বর্ণনা ও তা নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা। অনেকে স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য মদ পান করার অভ্যাস গড়ে। এটা বাহ্যত উন্নতি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে ক্ষতির দ্বার উন্মোচিত করে। পবিত্র কুরআনে এমনই বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ বলেন, “তারা তোমাকে (নবি সা.) মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এ দুটির মাঝে রয়েছে মহাপাপ।

আর মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে, তবে এ-গুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়”। সুরা বাক্বরা-২১৯

আয়াতটিতে বলা হয়েছে যে, মদ ও জুয়াতে যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিছু উপকারিতা পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু দু’টির মাধ্যমেই অনেক বড় বড় পাপের পথ উন্মুক্ত হয়; যা এর উপকারিতার তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর।

ইসলামের দৃষ্টিতে মদ-জুয়া হারাম। কবিরা গুনাহ। শয়তান কখনো আদম সন্তানের ভাল চায় না। সে চায় মানুষ তার স্রষ্টাকে ভুলে থাকুক। নেশা আর মাস্তিতে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকুক। সমাজে মন্দ আর ক্ষতিকর কাজের ব্যাপকতা লাভ করুক। সম্ভাব্য জান্নাতিকে জাহান্নামি আর সমাজের শান্তিকে অশান্তিতে পরিণত করার জন্য শয়তান জাল বুনে। সে জাল ছড়িয়ে দেয় সমাজে। মদ ও জুয়া মুমেন বান্দাকে আটকে ফেলার জন্য শয়তানের ছড়ানো জাল।

এ জাল থেকে সতর্ক‍ থাকার জন্য পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘‌‌‌‍‍‍‍‍‍হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া প্রতিমা ও লটারি এ সবই শয়তানের কাজ। তোমরা তা হতে বিরত থাক। আশা করা যায় , তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে। নিশ্চয় শয়তান, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায হতে তোমাদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে। তাই তোমরা এসব জিনিস হতে বিরত থাকবে কি? সুরা মায়েদা ৯০-৯১