সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


বরফে ঢাকা শীতল পাহাড়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা কামাল গাজী
শিক্ষার্থী; দারুল উলুম দেওবন্দ

shimla

ট্রেনের জানালার ফাঁক গলে মৃদুমন্দ বাতাশ বইছে। ঝক ঝক ঝক শব্দ বাহিরের শব্দকে গিলে ফেলেছে। মন্দ লাগছে না এ শব্দটা। কেমন যেনো নেশা নেশা ভাব। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। দূরে কোথাও ছোট ছোট তারার মতো টিপটিপ করে জ্বলছে গেঁয়ো মশাল। শীতের এ রাত্রিতে মনে হচ্ছে যেনো হারিয়ে যাচ্ছি কোনো দূর অজানায়।

শশমাহি ইমতেহান শুরু হবার আগ থেকেই নানা কল্পনা জল্পনা করছি কোথাও ঘুরতে বেরুবো। যাবো যাবো করেও যাওয়া হয়নি কোথাও। মুনাসিব সাথী পাওয়া মুশকিল। অনেকবার প্লান করার পরেও ভেঙ্গে গেছে। আশা নিরাশার জলে ভাসছিলাম। কাল আব্দুল্লাহ ভাই বললেন তিনি শিমলা যাচ্ছেন। সাথে আরো একজন। ব্যাস আমিও হয়ে গেলাম তাঁদের সফরসঙ্গী।

শিমলা হলো ভারতের উত্তর দিকে হিমাচল প্রদেশের রাজধানী। ভারতের পর্যটনকেন্দ্রেরর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রচণ্ড গরমেও এখানে থাকে কনকনে শীত। শীতকালে তো বরফ পড়ে। তাই বরফ দেখতে ট্যুরের জন্য শীতকালকেই বেছে নেয় ট্যাুরিস্টরা।

দেওবন্দ স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়লাম। আম্বালা স্টেশনে হবে খানিক যাত্রাবিরতি। সেখান থেকে কালাকা। পরদিন কালকা থেকে শিমলা। সফরটা মনে হয় আনন্দেই কাটবে। চড়বো পাহাড়ে। মেঘের নির্মল জল ছুঁয়ে দেখবো পাহাড়ে চড়ে। ঝর্ণার আমল জলে ভাসবো খানিকটা। কী মজাই না হবে!

আম্বালা পৌঁছলাম রাত ১০ টায়। ট্রেন থেকে নেমে গেলাম কালকা এক্সপ্রেসের টিকেট আনতে। লম্বা লাইন। স্টেশনে দায়িত্বরত একজন বললেন, কালকার ট্রেন তো সাত নাম্বার প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। তাড়াতাড়ি গিয়ে ট্রন ধরুন। টিকেট না কেটেই আমরা দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে কোনোমতে ট্রেন ধরলাম। জানালার পাশে সিট পেতে বসলাম। সময় কাটছিলো না যেনো। ফেসবুকেও একটু ঢু মারতে পারছি না। এরোপ্লেন মুড দিয়ে রেখেছি। সফরের সময় চার্জ ধরে রাখার এটাই একমাত্র পদ্ধতি। কী আর করা! বাহিরের রাতের দৃশ্য দেখতে দেখতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। কালকা স্টেশনে নামলাম রাত ২:৩০ মিনিটে। ভেবেছিলাম কোথাও টিকেট চেক হবে না। কিন্তু না। ট্রেন থেকে নামার পর টিকেট চেক হলো। টিকেট না কাটার অপরাধে দিতে হলো পাঁচশ রুপি জরিমানা। সমস্যার কথা বুঝিয়ে বললেও মানেনি তারা।

শিমলার ট্রেন রাত ৩:৩০ টায়। ট্রেনগুলো দেখতে খুব সুন্দর। ছোট ছোট বগি। জানালাগুলো বাসের জানালার মতো বড় বড়। ৩/৪ বগিবিশিষ্ট ট্রেনগুলো দেখতে অনেকটা শিশুপার্কের বাচ্চাদের চড়ার ট্রেনের মতো। টিকেট কেটে গেলাম ট্রেন ধরতে। ট্রেনের বগির তুলনায় যাত্রী ছিলো বেশি। সিট নেই কোনো বগিতে। এতোদূর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। প্রায় ছয় ঘà¦