সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


প্রসঙ্গ বাজেট ভাবনা: ইসলামে ঘাটতি বাজেটের অনুমোদন নেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আলামিন আল আরাফ

শুরুতেই একটা গল্প বলি, এক এমপিকে নিয়ে এই গল্প। তিনি একটা বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন। সেটা নিয়ে তিনি বের হলেন। রাস্তার ধারে গাড়িটা দাঁড় করিয়ে তিনি নামবেন। একটু হাওয়া খাবেন। যেই না দরজা খুলেছেন, অমনি একটা ট্রাক এসে তার খোলা দরজা উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে ফোন করলেন। পুলিশ এল। তিনি বললেন, ‘দেখুন, একটা ট্রাক কী করেছে, আমার নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ির দরজা ভেঙে নিয়ে চলে গেছে।’ পুলিশ তাকিয়ে দেখল ভালো করে। বলল, ‘স্যার, আপনি এই রকম কেন? আপনার গাড়ির দরজা নেই, শুধু এটা দেখছেন। ট্রাকটা যে আপনার বাম হাত উড়িয়ে নিয়ে গেছে, এটা দেখলেন না?’ এমপি সাহেব তখন তাকালেন তাঁর হাতের দিকে। তাঁর একটা হাত নেই। সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। সেদিকে তাকিয়ে তিনি কেঁদে উঠলেন, ‘আমার রোলেক্স ঘড়ি, আমার রোলেক্স ঘড়ি!’

পাঠকগণ, গল্পটা কিন্তু বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ন উল্টো। কেননা বাঙ্গালী এমপি দের এ রকম ১০/১২ টা বি এম ডব্লিউ ভেঙ্গে গেলেও তাদের কিচ্ছুই হবে না। কারনটা হচ্ছে, দেশী-বিদেশী ব্যাংকে এদের যে পরিমাণ টাকা মওজুদ আছে তা দিয়ে গাড়ী'র কোম্পানি ক্রয় করা অসম্ভবের কিছু নয়। তাছাড়া এদের হাতও বেশ লম্বা। এবার মূল গল্পে আসা যাক, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। বেশ ভালো অংকের বাজেট। যদিও অর্থনীতিবিদ দের ধারনা, এ বাজেট বাস্তবায়ন একেবারেই অসম্ভব। তারপরো,অর্থমন্ত্রীকে উয়েল্কাম টানা ১১ বার বাজেট পেশ করার জন্য।

এবারের বাজেটে দেখা গেছে , এই বিশাল অংকের ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন তিনি। এর মধ্যে কর হিসেবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা আদায় করা হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে; আর তার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে। এই বাজেটের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ হার রেখে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের করতে যাচ্ছে সরকার। তবে, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ঢালাও ভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাস্তবায়ন করে প্রত্যক্ষ করের তুলনায় দ্বিগুণ পরোক্ষ কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা অবশ্যই পরিতাপের বিষয়।রাজস্ব আয় বৃদ্ধির এ প্রস্তাব সকল পণ্য ও সেবার দাম বৃদ্ধি ঘটিয়ে মূল্যস্ফীতিকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবে,
এতে কোনো সন্দেহ নেই।

উদাহরণ স্বরূপ, রডের ওপর টনপ্রতি ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোà