মুফতী সালাহুদ্দীন মাসউদ
ভারতবর্ষে নূরাণী ইলমের আগমন
খোলাফায়ে রাশেদার যুগেই সাতজন সাহাবী ও আঠার জন তাবেয়ী ভারত উপমহাদেশে আগমন করে ইসলামি শিক্ষার বীজ বপন করেন। তবে সাহাবীগণ এখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেননি। তাবেয়ীদের আমল থেকে মুসলমানগণ উপমহাদেশে স্থায়ীভাবে বসতি আরম্ভ করেন।
হিজরি পঞ্চম শতকে সুলতান মাহমুদ গজনভীর পাঞ্জাব বিজয় এবং সুলতান মুহাম্মাদ ঘোরীর দিল্লী বিজয়ের পর গোটা উপমহাদেশে ইসলামি শিক্ষার বিস্তার ঘটে। খোলাফায়ে রাশেদার আমলেই সিন্ধু, পাঞ্জাব, লাহোরসহ সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে ইলমী চর্চা তুঙ্গে উঠে।
হিজরি ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী রহ.সহ বহু বুজুর্গানে দ্বীন আরব অঞ্চল থেকে উপমহাদেশে আগমন করার ফলে দ্বীনি শিক্ষার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। সে যুগে স্বতন্ত্রভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে দ্বীনি তালীমের প্রচলন কম ছিল। মসজিদের মধ্যেই সাধারণত তালীমের কাজ চলত। তবে মুয়াল্লিম ও তালেবে ইলমদের থাকার জন্য মসজিদের চারদিকে কামরা নির্মাণ করে দেয়া হত। উপমহাদেশের বহু লোক আরব এলাকায় গমন করে দ্বীনি শিক্ষা লাভ করতেন এবং নিজ এলাকায় ফিরে এসে নিজের বাড়িতে বা মসজিদে অন্যদের শিক্ষা দিতেন। হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে মুসলিম শাসকদের সক্রিয় সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দ্বীনি মাদরাসা গড়ে উঠে।
হিজরি সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে সুলতান নাসির উদ্দীন মুলতানে সর্বপ্রথম একটি মাদরাসা কায়েম করেন। ঐতিহাসিক ফেরেশতা বলেন, এ শতকে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি তৎকালীন বাংলার রংপুর জিলায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে মুহাম্মাদ তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমল থেকে দ্বীনি ইলমের প্রতিষ্ঠান কায়েমের ব্যাপক উদ্যোগ শুরু হয়। আল্লামা মাকরেযীর বর্ণনা মতে, মুহাম্মাদ তুঘলকের আমলে কেবল দিল্লী শহরেই প্রায় একহাজার মাদরাসা গড়ে উঠে।
হিজরি অষ্টম শতক থেকে মুসলিম শাসকমন্ডলী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের প্রতি গভীর মনযোগী হন। প্রতিষ্ঠান কায়েমের মাধ্যমে ইলমের বিকাশ সাধনে তারা বহুমূখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গুজরাটের সুলতান মুহাম্মাদ আদিল শাহ আরবের সাথে সামুদ্রিক যোগাযোগ স্থাপন করলে উপমহাদেশীয় মুসলমানগণ আরব, মিশর ইত্যাদি দেশ থেকে ইলম শিক্ষা করে স্বদেশে ফিরে ই