সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


জান্নাত থেকে শহীদ জুনাইদের চিঠি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সালিম সিদ্দিকী পুরনাভি

(হাফেজ জুনাইদ খান। বয়স এখনো ১৬ বছর হয়নি। দিল্লির একটি মসজিদে খতম তারাবিহ পড়িয়েছেন। সাতাশে রমজান রাতে কুরআন খতম হয়ে গেলে পরদিন বিকেলে মায়ের জন্য ঈদের কেনাকাটা করে দিল্লি-মথুরা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন। সাথে ছিলেন ভাই হাফেজ হাশেম ও হাফেজ মুহাম্মদ শাকের। তারাও দিল্লির অপর দু’টি মসজিদে খতম তারাবিহ পড়িয়েছেন। তাদের বাড়ি হরিয়ানার ফরিদাবাদের খান্দাওলি গ্রামে।

সবাই ঈদের কেনাকাটা করে আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের স্বপ্ন নিয়ে ঘরে ফিরছিলেন। তারা রোজা রেখেছিলেন। ইচ্ছে ছিল বাড়িতে গিয়ে মায়ের সাথে ইফতার করবেন। পথে তুঘলকাবাদ স্টেশনে উগ্রবাদী হিন্দু সন্ত্রাসীদের একটি দল ট্রেনে উঠে তাদের সাথে সিট নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে ওরা দাড়ি-টুপি নিয়ে গালমন্দ করে। তখন তিন হাফেজ পালওয়াল স্টেশনে নেমে যেতে চান, কিন্তু উগ্রবাদীরা তাদের বাধা দেয়।

এরপর ওই সন্ত্রাসীরা চাকু ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে ‘ভারতের’ বিশ্বাসঘাতক ও ‘গরুখেকো’ স্লোগান দিয়ে উপর্যুপরি আক্রমণ শুরু করে। তিন হাফেজ বাঁচার জন্য চিৎকার করেন, কিন্তু তাদের উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সবাই নীরব দর্শক হয়ে তামাশা দেখতে থাকে। হাফেজ জুনাইদ ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। বাকি দু’জন আহত হন।

ভারত যে অস্থিতিশীল, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এ ঘটনা তার বড় প্রমাণ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে প্রতিবাদের ঝড় চলছে। কলামিস্ট সালিম সিদ্দিকী পুরনাভি জান্নাতবাসী হাফেজ জুনাইদের প থেকে তার মমতাময়ী দুঃখী মায়ের কাছে মর্মস্পর্শী একটি কাল্পনিক চিঠি লিখেছেন। পাঠকের জন্য ওই চিঠি এখানে উপস্থাপন করা হলো।-অনুবাদক)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আমার প্রিয় আম্মিজান!

আশা করি, তুমি ভালো আছ। তুমি সর্বদাই ভালো থেকো। নিবেদন এই যে, মা আমি আসল বাড়ি অর্থাৎ জান্নাতে পৌঁছে গেছি। তুমি নতুন কাপড়ে আমাকে দেখতে চেয়েছিলে না? দেখো, আমি একেবারে নতুন কাপড় পরে আছি। তুমি নতুন কাপড় কিনতে দিল্লি পাঠিয়েছিলে। কিন্তু ভাগ্য আমাকে জান্নাতে নিয়ে এসেছে। এখানে অনেক ভালো ভালো পোশাক কিনছি। মাগো, আমি এখানে বেশ সুখে আছি। এখানে ভিড়ে চাপাচাপির ভয় নেই। এখানে বৈষম্য নেই। জান্নাতের বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছি; ফল খাচ্ছি। আর হ্যাঁ, এ কথা তো বলতে ভুলেই গেছি, শহীদদের সাথে ঈদের আনন্দ উদযাপন করছি। আমার সাথে মুহসিন শেখ থেকে নিয়ে মিনহাজ আন