বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

পাহাড় নিধনও মানবতাবিরোধী অপরাধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যুবায়ের আহমদ : নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মনকাড়া আয়োজন পাহাড় মহান আল্লাহ তাআলার কুদরতের অন্যতম নিদর্শন। মহান আল্লাহ তাআলা পাহাড়কে অযথা সৃষ্টি করেননি। পাহাড়ের রহস্যময়ী সৌন্দর্য যেমন প্রকৃতিকে রূপকথার স্বপ্নপুরীতে পরিণত করেছে, তেমনি গাছপালা, উদ্ভিদ আর উপকারী সব বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে তা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জমিনের স্থিতিশীলতা রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা ও ভূমিকম্প থেকে সৃষ্টিকুলকে হেফাজতের মাধ্যমে পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে রাখতে যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, সেখানে ততটুকু পাহাড় সৃষ্টি করেছেন।

পবিত্র কাবার নিকটবর্তী দুটি পাহাড় ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’কে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন। পবিত্র কোরআনুল কারিমের ২৭তম পারায় ‘তুর’ নামে একখানা সুরা রয়েছে। ‘তুর’ অর্থ হলো এমন পাহাড়, যাতে লাতাপাতা ও বৃক্ষ উদগত হয়। (মা’আরেফুল কোরআন : ১২৯৯ পৃষ্ঠা) এ সুরার শুরুতে আল্লাহ তাআলা  পাহাড়ের কসম করেছেন। পাহাড়ের কসম করার মাধ্যমে মানবসভ্যতার জন্য পাহাড়ের বিশেষ গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে। তা ছাড়া পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরায় গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে পাহাড় প্রসঙ্গ। মহান আল্লাহ তাআলা  পাহাড়কে জমিনের পেরেক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমি কি ভূমিকে করিনি বিছানা। আর পর্বতমালাকে কি করিনি পেরেক?’ (সুরা নাবা : ৬-৭) দেড় হাজার বছর আগে দেওয়া পবিত্র কোরআনের এ তত্ত্বকে বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় সত্য বলে অকপটে স্বীকার করেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ববিদ্যার রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহৃত ‘Earth’ নামক গ্রন্থে বইটির লেখক যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান একাডেমির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. ফ্রাংক উল্লেখ করেন, পাহাড় হলো গোঁজ বা পেরেকের আকৃতির। ভাসমান খুঁটির মতো তা পৃথিবীর স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাহাড়ের গভীর শিকড় পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রোথিত। তার মাত্র ১০ শতাংশ ওপরে আর ৯০ শতাংশই পানির নিচে। পবিত্র কোরআনুল কারিমের অন্যত্রও ইরশাদ হয়েছে যে পাহাড়কে তিনি পৃথিবীর স্থিতিশীলতা রক্ষায় তৈরি করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘পৃথিবীকে স্থিতিশীল করে রাখতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পাহাড় সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পৃথিবীতে এ জন্য ভারী বোঝা (পাহাড়) রেখেছি, যেন তাদের নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে। ’ (সুরা আম্বিয়া : ৩১) এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা  জমিন সৃষ্টি করলে তা নড়াচড়া শুরু করল। অতঃপর তিনি পাহাড় স্থাপন করার পর জমিনের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হলো। (তিরমিজি : ৩২৯১)

মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রতি মুহূর্তে অক্সিজ