অর্ণব সান্যাল : দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। প্রাতিষ্ঠানিক লেখা পড়া শেষ করার পর এসব যুবকরা চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ চাকরির জন্য হন্যে তারা। অন্যদিকে চাকরিদাতাদের অভিযোগ যোগ্য লোক তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের দাবি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া সম্পন্ন করলেও এসব যুবকরা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে যোগ্য হয়ে উঠছেন না। ফলে অনেক পদ খালি রেখেই তাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে হচ্ছে।
তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার বাইরে কী চান চাকরিদাতারা। এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে লেখায়।
বিদেশি ভাষায় দক্ষতা
বর্তমানে চাকরির বাজারে বহু ভাষায় কথা বলতে পারা লোকজনের খুব কদর। এ জন্য একাধিক বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। কারণ আপনি যদি কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে যান, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশে বদলি হওয়ার সুযোগ আসতেই পারে। আবার অনেক সময় কাজের খাতিরেই যোগাযোগ করতে হয় বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে। সেই জন্য প্রতিষ্ঠানও চায় একাধিক ভাষায় দক্ষ ব্যক্তি।
সামাজিক মাধ্যমে দক্ষতা
আজকালকার যুগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে না থাকলে কি চলে? বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় নিয়মিত। কারণ, এ মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। এ জন্য ভার্চ্যুয়াল জগতে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মীদেরও সক্রিয় দেখতে চায় প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থাপনের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর প্রয়োজন হয়। তাই এ ধরনের দক্ষতা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবেই বিবেচনা করেন নিয়োগকর্তারা।
আবার এর উল্টো পিঠও আছে। কর্মঘণ্টা নষ্ট করে সামাজিক মাধ্যমে সময় দিলে, সেটি চাকরি চলে যাওয়ার কারণও হতে পারে। সুতরাং সাধু সাবধান!
প্রোগ্রামিংয়ের অ-আ-ক-খ
কম্পিউটার প্রোগ্রামিং জানা থাকলে তা চাকরির বাজারে আপনাকে দেবে বাড়তি সুবিধা। সফটওয়্যার তৈরি করতে না হয় না-ই পারলেন। কিন্তু কোডিং সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানও আপনাকে ক্যারিয়ারে এক ধাপ এগিয়ে দেবে। কম্পিউটারের যুগে কম্পিউটারের কাজ না পারলে কি চলে, বলুন?
তথ্য বিশ্লেষণ বা ডেটা অ্যানালাইসিস
একবিংশ শতাব্দীতে প্রচুর তথ্য নিয়ে কাজ করে কোম্পানিগুলো। নিজেদের উন্নতির জন্য যেমন বাজারের খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়, তেমনি গ্রাহকদের আকর্ষণ করতেও প্রয়োজন তথ্যের খেলা।