সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


আরাকানের মুসলমান : ইতিহাস ও ঐতিহ্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক

নরমিখলা অধ্যায়
১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বিশেষ এক পরিস্থিতিতে আরাকানে মুসলমান আগমন শুরু হয়। আরাকানের রাখাইন রাজা নরমিখলা (Narameikhla) এক নারীকে অপহরণ করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, জোর করে বিয়ে করেন। এতে আরাকানি সম্ভ্রান্তরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো; আরাকানি সামন্তবর্গ ক্রুদ্ধ হয়ে বার্মার রাজাকে লংগ্রেত আক্রমণ করতে প্রলুব্ধ করে।

ত্রিশ হাজার সৈন্য নিয়ে বার্মারাজ মেং শো আই লংগ্রেত আক্রমণ করার আগেই নরমিখলা তৎকালীন বাংলার রাজধানী পদ্মাপাড়ের গৌড় নগরীতে পালিয়ে এলেন। আশ্রয় নিলেন গৌড়ের প্রখ্যাত সুফিসাধক মোহাম্মদ জাকের নামের এক দরবেশের আস্তানায়। দরবেশের বদান্যতায় গৌড়ের রাজপ্রাসাদে নরমিখলা আতিথ্য লাভ করেন। গৌড়ের সুলতান ছিলেন জালালুদ্দীন মোহাম্মদ শাহ। তিনি ১৪৩০ খ্রিষ্টাব্দে নরমিখলার রাজ্য উদ্ধারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।


নরমিখলার রাজ্য সীমানা

পরিকল্পনা মোতাবেক চট্টগ্রামের সেনাপতি ওয়ালী খানের নেতৃত্বে এক বিশাল মুসলিম সৈন্যদল প্রস্তুত করা হলো। ঐতিহাসিকদের মতে এই বাহিনীতে সৈন্যসংখ্যা ছিল ২০ হাজারের অধিক। ওয়ালী খানের নেতৃত্বে আরাকান রাজা নরমিখলা আরাকানে আগমন করেন।

ওয়ালী খানের নেতৃত্বে সহজেই আরাকানের দখলদার আভা রাজাকে (ব্রহ্ম রাজা) উৎখাত করা সম্ভব হয়। কিন্তু ওয়ালী খান জালালুদ্দীন মোহাম্মদ শাহ এবং নরমিখলার (সোলাইমান শাহ) সঙ্গে বেঈমানি করেন এবং নরমিখলাকে (সোলাইমান শাহ) বন্দি করে নিজেই আরাকানের সিংহাসনে বসেন। আরাকানের ইতিহাসে ‘উলি খ্যাঙ’ নামে যে রাজাকে দেখা যায় তিনিই ‘ওয়ালী খান’ বলে গবেষকদের অভিমত।

নরমিখলা কৌশলে বন্দি দশা থেকে পালিয়ে আবার গৌড়ের সুলতানের আশ্রয়ে চলে যান। পরে বাংলার সুলতান জালালুদ্দীন মোহাম্মদ শাহ চট্টগ্রামের সেনাপতি সিন্ধী খানের নেতৃত্বে আবার আরাকানে ৩০ হাজার সৈন্য প্রেরণ করেন। সেই যুদ্ধে ওয়ালী খান পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘ ২৬ বছর পর বাংলার সুলতান জালালুদ্দীন মোহাম্মদ শাহের হস্তক্ষেপে নরমিখলা বা সোলাইমান শাহ আবার আরাকানের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং রাজত্ব ফিরে পান।

সোলাইমান শাহ তিন বছর রà¦