বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি সিঙ্গাপুরে এমপি হানজালার সঙ্গে বিকেএম নেতাদের সাক্ষাৎ ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি নিউইয়র্কে পীর সাহেব চরমোনাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এ সপ্তাহে মসজিদুল হারামের খতিব জুহানি, মসজিদে নববীতে হুযাইফি ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ৫ হাজারের বেশি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত! ইসলামী আন্দোলনের বায়তুল মাল মাসে এক লাখ টাকার কুপন সংগ্রহ বিড়াল কেনা-বেচা ও লালন-পালনের শরয়ি বিধান পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দিতে গিয়ে সুদের ফাঁদে পড়ছেন না তো? 

আগুন দিয়ে পান বানান আবদুল জলিল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাসুদুল হক:  পান তো নয়, যেন আগুনের গোলা! জ্বলন্ত পান মুখে পুরে এই কথাটিই মনে হবে আপনার। ব্যাপারটা রোমাঞ্চকর বটে!

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামঘেঁষা অনুশীলন মাঠের পাশের একটি গলিতেই সেলিম টি স্টল। কাঁচা মরিচ থেকে কতবেল—চায়ে মেশাতে তিনি কিছুই বাদ রাখেননি। এই দোকানের পাশেই পানের দোকান। ‘সেলিম স্পেশাল পান বিতান’।

সেদিন পানের দোকানে ছোট একটা কাগজে চোখ আটকে গিয়েছিল। ছাপার হরফে লেখা, ‘ফায়ার পান পাওয়া যায়—দাম ৫০ টাকা!’ ফায়ার বা আগুনে পানের কথা ফেসবুকে চোখে পড়েছিল।

পানের দোকানে যিনি বসে ছিলেন, তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল। আমাদের দেখেই একগাল হেসে দিলেন। জানতে চাইলেন, পান খাব কি না। তাঁর প্রশ্নে হ্যাঁ-না জানানোর আগেই আলাপ জমে উঠেছিল। তাঁর নাম আবদুল জলিল হাওলাদার। সেলিম চা স্টলের সেলিম তাঁর ছোট ভাই।

২০০৪ সাল থেকে শাহি মিষ্টি পানের ব্যবসা তাঁর। মাস তিনেক আগে যুক্ত করেছেন ‘ফায়ার’ পান। ফায়ার পান বানানোর কৌশল তিনি ইন্টারনেটে দেখেছেন। বানানোর কৌশল রপ্ত করেছেন পুরান ঢাকার একটি শাহি মিষ্টি পানের দোকানে। পাশের চায়ের দোকানে যেহেতু তরুণদের ওঠাবসা, তাই তরুণদের জন্যই শাহি মিষ্টি পানের ব্যবসায় নতুন পদটি যুক্ত করেছেন তিনি।

মূলত শাহি মিষ্টি পানের উপকরণগুলোর সঙ্গে বাড়তি কিছু মসলা যোগ করে বানানো হয় ফায়ার পান। কী কী দেওয়া হয় এই পানে? কিছুটা সন্দেহ হলো তাঁর। পাছে রেসিপি বেহাত হয়ে যায়!

সেই সংশয় অবশ্য কেটেও গেল। কুমড়ার মোরব্বা, খেজুর, শুকনা নারকেল, কাঁচা নারকেল, কালোজিরা, মধু, বাদাম, কিশমিশসহ কী কী মিশিয়ে তিনি এ পান বানান, তাঁর সবই সেদিন তিনি বলেছিলেন। তবে অবাক হয়েছি শুনে—ফায়ার পানে জর্দা, চুন অথবা সুপারি দেওয়া হয় না।

আবদুল জলিলের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনজন এলেন। বন্ধুরা মিলে এসেছেন আগুনে পান খাবেন বলে। আবদুল জলিল ফায়ার পান বানানো শুরু করলেন, আমাদের আগ্রহ যিনি ফায়ার পানটা খাবেন তাঁর দিকে। দেখে মনে হলো, তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছেন।

আবদুল জলিল ফায়ার পান বানিয়ে লোকটির মুখের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। উনি হাঁ করে পানটা মুখে পুরেই চিবাতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পান চিবানোর পরে সব ভয়-ডর নিমেষেই গায়েব। চেহারায় বিজয়ীর হাসি।

বিজয়ী মাঈনুল হাসান বললেন, ‘কৌতূহল থেকেই পানটা খাওয়া। বন্ধুদের সামনে এই ফায়ার পান খাওয়ার ব্যাপারটার মধ্যে একধরনের বীরত্বও কাজ করে হয়তো!’

ফায়ার বানাতে প্রথমে কাঁচা পান