তারেকুল ইসলাম
লেখক
আল্লামা আহমদ শফী হুজুর তাঁর বক্তব্যে ‘মোবাইলিজম’ শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন। এই শব্দটা মিডিয়ায় আসেনি। হুজুর এরকম একটি শব্দ ইউজ করেছেন, এতে উপস্থিত অনেক নেতৃবৃন্দ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
আমার মনে হয়, মোবাইলের প্রতি সবার বর্তমান এডিকশন বা নেশাগ্রস্ততাকে বুঝাতে তিনি তার বক্তব্যে এই টার্মটা আক্ষরিকভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
খেয়াল রাখুন, এখানে ইংরেজি পরিভাষা Mobilism-কে বুঝানো হচ্ছে না। যাই হোক, এ কয়েক বছরে অধিকাংশ মানুষ দিনদিন মোবাইলের প্রতি বেশ আসক্ত হয়ে পড়েছেন (being something of an addiction)।
এর ফলে মানুষের নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে। আর বিশেষত বাচ্চা, কিশোর ও যুবকরা বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে মোবাইলের প্রতি। ফেইসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো ইত্যাদি অ্যাপস দ্বারা যেন তাদের সময় ও জীবনটা আটকা পড়ে গেছে।
মা-বাবারা ইতোমধ্যে আশঙ্কায় পড়েছেন তাদের ছেলেমেয়েদের এই অবস্থা দেখে। ‘চোখ গেলো চোখ গেলো’, ‘পড়াশোনা লাটে উঠছে’, ‘অলস হয়ে গেছে’—এসব আশঙ্কামূলক বাক্য এখন তাদের মুখে হরহামেশা শোনা যাচ্ছে।
বয়োবৃদ্ধ আহমদ শফী হুজুর মোবাইল ফোনের বর্তমান টেকনোলজিকাল অগ্রগতি ও আপডেট ভার্সন সম্পর্কে অবগত না হওয়ারই কথা; কিন্তু মোবাইলের কুফল ও পরিণতি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন, কারণ তিনি একটি বৃহৎ মাদরাসার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।
মোবাইলে আসক্ত কিশোর-তরুণদের বর্তমান দুরবস্থা নিশ্চয়ই তার নজর এড়ায়নি। আর তিনি মোবাইল বলতে সাম্প্রতিককালের আপডেট ভার্সন স্মার্টফোন ও এনড্রয়েডকেই নির্দেশ করেছেন।
ফেসবুকে আসক্ত এখন সবাই। এই আসক্তির ফলে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাচ্চারা এবং শিক্ষার্থীরা। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারেন? ফেইসবুকে আসক্তি মানে মোবাইলেও আসক্তি।
অ্যাপলের জনক স্টিভ জবসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনার সন্তানদের কাছে নতুন ডিভাইস ‘আইপ্যাড’ কেমন লেগেছে বা তারা সেটা পছন্দ করেছে কিনা। তখন তিনি জবাবে বলেছিলেন, “তারা সেটা এখনো ব্যবহার করেনি। আমাদের সন্তানরা বাসায় টেকনোলজি কতটুকু ব্যবহার করবে না-করবে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করি।”
(The Reason Steve Jobs Didn’t Let His Children Use An IPAD, February 24, 2016, INDEPENDENT.UK)
আল্লামা আহমদ শফীর কথাও সেটা। সন্তানরা বা শিক্ষার্থীরা মোবাইল থেকে দূরে থাকবে, অর্থাৎ প্রয়োজনের বাইরে দূরে থাকবে। এখানে দূরে থাকা বলতে আসক্তি বা নেশা থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন তিনি। যেন বাচ্চারা বা সন্তানরা মোবাইলে সময় নষ্ট না করে।
এতটুকু বোঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই সেক্à