জুনায়েদ শোয়েব
বিশেষ প্রতিবেদক
২১ ডিসেম্বর আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টেফোর ডটকম আয়োজিত "মানবতার নবী হজরত মুহম্মদ সা. রোহিঙ্গা সঙ্কট : সঙ্কটে বাংলাদেশ" শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন আমাদের বাংলাদেশের জন্য রাষ্ট্রীয় সমস্যা : আর রাষ্ট্রীয় সমস্যাগুলোকে মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করা উচিৎ, ধর্মীয় সংকট নয়।
এর কারণ হিসেবে তিনি যুক্তি তুলে ধরেন বলেন, রাসুল সা. এসেছিলেন মানবতার জন্য, তাই মানবতা ধর্মীয় পরিচয়ের পূর্বে প্রকাশ করতে হবে। অন্যদিকে সারা বিশ্বে সংখাগুরু অমুসলিম থাকায় রোহিঙ্গা সমস্যাকে ধর্মীয় সংকট বলায় তা বৈশ্বিক সংকট হিসেবে গুরুত্ব পায় না।
তাই সারা বিশ্বের কাছে গুরুত্ব তুলে ধরতে একে মানবিক সংকটই বলতে হবে।
মূল আলোচনার শুরুতে তিনি বলেন, রাসুল সা. রাহমাতুল্লাহি লিল মুসলিমিন নয় বরং রাহমাতুল্লিল আলামিন অর্থাৎ সমস্ত মানুষ ও পৃথিবীর নবী। কুরআন এভাবেই বলেছে। রাসুল সা. যখন হিজরত করেন তখন মদিনায় মুসলিমের চেয়ে অনেক বেশি ছিলো অমুসলিম।
এক ইশ্বরবাদী ইহুদিরা ছিলেন। ছিলেন মুর্তি পুজারি ত্রিত্তবাদী খ্রিস্টানরাও। তিনি এই সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। যাকে আমরা মদিনা সনদ বলি। বর্তমানে সেই সনদ যদি কার্যকর করা যেতো তবেই মানবতা প্রতিষ্ঠা হতো। কিন্তু সেই সনদ থেকে আমরা এখন অনেক দূরে।
উদাহরণ বশত ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিষয়টি অতি মাত্রায় মুসলমানিকরণ করা হয়েছে। একে যদি মানবতার বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হতো তাহলে বিষয়টি অন্যরকম হতো। কারণ যখনই বিষয়টি ধর্মীয় হয় তখন তা শুধুমাত্র এক জাতির কাছেই সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
অথচ যারা তখন ফিলিস্তিনে ছিলো যারা মুক্তির জন্য যুদ্ধ করছে তার মধ্যে মুসলিম আছে, এরাবিয়ান ইহুদি আছে, একদল এরাবিয়ান ক্রিশ্চানও আছে।
কিন্তু যারা ফিলিস্তিন দখল কেরেছে তারা এরাবিয়ান ইহুদি নয়। জবরদখলকারী। এদের বিরুদ্ধে সমস্ত বিশ্ব থেকে চাপ দিলে তার এই জবর দখল রাখতে পারতো না।
তেমনি রোহিঙ্গা সমস্যা টাও একটা মানবিক সঙ্কট। এটাকে যদি ধর্মীয় সংকট বলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এটা সত্যিই বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ সঙ্কট হয়ে যাবে।
তিনি সবার প্রতি আহবান করে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাকে মানবিক, বৈশ্বিক