সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


'ফেরা': ফিরে আসি নীড়ে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইযাযুল হক

এক.
একটি বই নিয়েই এ লেখাটি। এই ক্ষুদ্র জীবনে পড়া বইগুলির মধ্যে অন্যতম পাওয়ারপুল বই হয়ে থাকবে এটি। লাইব্রেরি থেকে বাসায় এসে বসেছি আর একশো বিশ পৃষ্ঠার পুরো বইটি শেষ না করে উঠতে পারিনি।

বইটি পড়তে পড়তে কখনো কুটকুটিয়ে হেসেছি। কখনো ঠোট কামড়ে অশ্রুসংবরণ করা ব্যর্থ চেষ্টা করেছি। কখনো আবার নিজেকেই ধিক্কার দিয়েছি। আমাকে মনে হয়েছে পৃথিবীর ঘৃণ্যতম প্রাণী; ইতিহাসের নর্দমার ভাগাড়েই আমাকে ছুঁড়ে ফেলা উচিত!

মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছি বলে কি আমাদের বোধ জাগ্রত হয় না?
কেন আমরা মুসলিম হয়েও মুসলিম না? কেন?
কেন আমরা অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের অন্তরায়?

বইটি পড়ে ঈমান বেড়েছে। নাহ! ঈমান নবায়ন হয়েছে বললেই যথার্থ হবে। নিজেকে একজন আলিম পরিচয় দিতে কুণ্ঠিত হই। এখন থেকে শুধু সত্যিকারের মুসলিম হতে চাই।

দুই.
দুই সহোদর বোনের জীবনের গল্প 'ফেরা'। বইয়ে দুটি অংশ। প্রথম পর্ব সিহিন্তার গল্প। দ্বিতীয়টি নাইলাহর। দুজনেই নিজের কলমে বয়ান করেছেন সেই শিহরণজাগানিয়া কাহিনী।

স্বতঃস্ফূর্ত বলে গেছেন কীভাবে তাঁরা ফিরেছেন আপন আপন নীড়ে। অনেক চড়াই-উৎড়াই পাড়ি দিয়ে; বন্ধুর পথ মাড়িয়ে। মোটেও মসৃণ ছিল না এ পথ তাঁদের জন্যে। খৃস্টান মাকে বিয়ে করতেই মুসলিম বাবা চার্চে ঘোষণা দিয়ে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। চরম ইসলামবিদ্বেষী মায়ের কাছে জিম্মি বোনদ্বয় শেষ পর্যন্ত কীভাবে এসেছেন হিদায়াতের পথে- তাই আলোচিত হয়েছে পুরো বইজুড়ে।

তিন.
খৃষ্টধর্মের ধাঁধা থেকে নাস্তিকতার চোরাবালিতে আঁটকে যাওয়া সিহিন্তার জীবনে কীভাবে উদিত হয়েছিল হিদায়াতের প্রভাতরবি, সে এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। চরম ইসলামবিদ্বেষী খৃষ্টান-কমিউনিটিতে বেড়ে-ওঠা এই ভদ্র মহিলা স্বাভাবিকভাবেই ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন।

যত অনুরাগ, সবই খৃষ্টধর্মের প্রতি। পরিবারের মুখউজ্জ্বলকারী ধর্মপালনে নিষ্ঠাবান সেই সিহিন্তাই বই পড়তে পড়তে একসময় নাস্তিকবাদে মন দেন। পুরোদস্তুর একজন নাস্তিকই ভেবেছিলেন নিজেকে। তবে এতেই প্রশান্ত ছিলেন না তিনি। খৃষ্টবাদ থেকে বিতৃষ্ণার কারণেই সাময়িক এই ভনিতা। তিনি তো খুঁজে ফিরছিলেন এক মহাসত্য!

বইপড়া ছাড়া অন্য তেমন কোনো মাধ্যম ছিল না তাঁর। তখনও ইসলাম সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে খানিকটা জানাশোনা হলো। শুরু হলো অন্য এক জীবন। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করতে করতেই এক সময় মুসলিমাহ হয়ে যান।

পরিবারের সঙ্গে তুমুল সংগ্রাম করে পাড়ি দেন পরবর্তী ধাপগুলো। ঈমানী পরীক্ষার সবগুলো পর্যায় পার হয়ে একসময় ঘর ছাড়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ইসলামের জন্যই শুধু ছিন্ন করেন পরিবারের মায়াজাল।

চার.
নাইলাহর গল্পটা অনেকাংশেই সিহিন্তানির্ভর। ছোট বোনের সাথà