সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন কোয়ালিশনের সহযোগিতায় একটি কুর্দি মিলিশিয়া-প্রধান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানার পর তুরস্ক একে 'আঁতুড়ঘরেই ধ্বংস করে দেবার লক্ষ্য নিয়ে' মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সেনা অভিযান শুরু করে দিয়েছে।
তুরস্কের সেনাবাহিনী এর মধ্যে সিরিয়ার ভেতরে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আফরিনে ঢুকে পড়েছে, এর মধ্যে দিয়ে সিরিয়ার যুদ্ধে এখন আরেকটি ফ্রন্ট খুলে গেল। কিন্তু সিরিয়া নিয়ে আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটা কী? খবর বিবিসির।
সিরিয়ায় এ মুহূর্তে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা আছে। যেটা বোঝা যাচ্ছে তাদের পরিকল্পনাটা হলো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় একটি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে যা কবে শেষ হবে এমন কোনো সময়সীমা থাকবে না - যাতে জিহাদি ইসলামিক স্টেট গ্রুপকে স্থায়ীভাবে পরাজিত করা যায়, ইরানের প্রভাব মোকাবেলা করা যায় এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানে ভূমিকা রাখা যায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১১ সালে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে যে ভুল করা হয়েছিল - সেরকম আরেকটি ভুল করতে চান না।
কুর্দি এসডিএফ মিলিশিয়াদের নিয়ে নতুন বাহিনী তৈরি সম্পর্কে রেক্স টিলারসন বলেন, তারা কোনো নতুন বাহিনী তৈরি করছেন না। তাদের লক্ষ্য স্থানীয় যোদ্ধাদের মুক্ত এলাকাগুলোকে আইএসের অবশিষ্ট ক্ষুদ্র দলগুলোর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম করে তোলা।
গত বুধবার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে টিলারসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। তবে তারা এখনো সম্পূর্ণ পরাজিত হয়নি এবং মার্কিনবিরোধী বাশার আসাদের সরকার সিরিয়ার অর্ধেক এলাকা এবং জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
তার কথা, শুধু আইএস ও আল-কায়েদাই নয়, ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
টিলারসন বলেন, সিরিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য পাঁচটি: আইএস ও আল-কায়েদার স্থায়ী পরাজয় যাতে তারা অন্য কোনো নাম নিয়ে আবার মাথা তুলতে না পারে।
দুই, জাতিসংঘের নেতৃত্বে বাশার আসাদ-উত্তর একটি স্থিতিশীল একক ও স্বাধীন সিরিয়া গঠন করে সংকটের সমাধান করা।
তিন, সিরিয়ার ওপর ইরানের প্রভাব কমানো এবং সিরিয়ার প্রতিবেশীদের নিরাপদ করা।
চার, ঘরবাড়ি হারানো মানুষেরা যেন তাদের ঘরে ফিরতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করা।
পাঁচ, সিরিয়াকে গণবিধ্বং