আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সে হিসাবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হতে পারে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র রমজান। তবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান শুরুর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে।
ইমেরিটাস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে জুমাদাল উলা মাস শুরু হতে পারে। এই হিসাবের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার পবিত্র রমজানের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পবিত্র ঈদুল ফিতর ৯ মার্চ মঙ্গলবার অথবা ১০ মার্চ বুধবার উদযাপিত হতে পারে।
তবে চাঁদ দেখার পদ্ধতি নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি হাব জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ খালি চোখে বা সাধারণ টেলিস্কোপে দেখা কঠিন হতে পারে। তবে আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আলোকচিত্র প্রযুক্তির সাহায্যে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেসব দেশ চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে গাণিতিক হিসাব ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেয়, সেসব দেশে নতুন মাস গণনা এক দিন আগে শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, খালি চোখে বা সাধারণ টেলিস্কোপে চাঁদ দেখার শর্ত অনুসরণকারী দেশগুলোতে মাস শুরু হতে পারে পরদিন।
ইব্রাহিম আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করেন, চাঁদের বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণ করে হিজরি মাসের অগ্রগতি নির্ধারণ করা যায়। সরু কাস্তে আকৃতির চাঁদ থেকে পূর্ণিমা এবং পরে চাঁদের ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা দেখে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ চন্দ্রমাসের হিসাব রাখছে। ইসলামি বর্ষপঞ্জির ক্ষেত্রেও চাঁদের এই পর্যায়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বিশ্বজুড়ে পবিত্র রমজান মাসের আগমন ঘটতে পারে। তবে রমজান শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এসএইচ/