সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


রঙিন মখমল দিন এবং কিছু রসকষহীন অনুভূতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বইয়ের নামঃ রঙিন মখমল দিন।  লেখকঃ শরীফ মুহাম্মদ।
প্রকাশকঃ নবপ্রকাশ।  মুদ্রিত মূল্যঃ ২৩০৳

শরীফ মুহাম্মদ। ছোটবেলার শরীফ চাচ্চু। বড়বেলায় এসে কিছুটা লাজুক দৃষ্টি। যেন কাতেবে কালআ’লাম। চোখ পড়ে গেলেই এপাশ ওপাশ করে পালিয়ে যাই। মনে হয় এতোটা মহানত্বের ধারক, এ মানুষটির হাত ছোঁব কী করে? ক্যানো-বা আমি আমার অনাগত লজ্জাকে টেনে টেনে কাছে নিয়ে এসে একটু অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হাসি মেলে ধরতে চাইবো?

শরীফ চাচ্চুর একটা বই বেরুলো সেদিন। রঙিন মখমল দিন। কিছুটা আত্মজীবন। কিছুটা শৈশব। ঘোরলাগা গদ্যের এক মহা সমারোহ। যেন বা উথলে পড়ছে দরদ। তড়পাচ্ছে ক্রমাগত। প্রিয় মানুষের বই এলে সবার ভেতরই কেমন কেমন নড়ে ওঠে।

অধীর আগ্রহে যাপিত সময় বারেবারেই খুঁজে ফিরি এদিকওদিক। ঠিক এমন সময়েই নাজিল হলেন ইফতেখার জামিল। মধ্যবাড্ডার এক শীত শীত সন্ধ্যায় তিনি আমাদের বগলদাবা করে দিলেন এক রঙিন মখমল দিন।

শরীফ চাচ্চুর বই নিয়ে এমন অনুভূতির সম্মুখীন হলে আমার তার প্রতি তীব্র অভিমানের সৃষ্টি হয়। একটা সময় এমন ছিলো, ‘সকালের মিষ্টি রোদ’ অথবা ‘এই গরবের ধন’ কিংবা অন্যান্য বইসব পাঠকের দ্বারস্থ হলে শরীফ চাচ্চু কী প্রেম আর মুহাব্বত নিয়ে আমাদের ভালোবেসে ফেলতেন।

বইয়ের প্রথম পাতায় চকচকে নিল রঙের হরফে লিখা থাকতো “সাদ আর যিয়াদ, প্রীতি নিয়ো”। কিন্তু এখন? হয়তো কখনো দেখা হয়ে গেলে একটু হাসি। একটু পুরোনো প্রেম। তেড়ে আসতে থাকে। আমার অভিমানটা ঠিক এখানেই। আমাদের মন চায়, তাকে আরো পাই আরো পাই। কাছে থেকে আরও কিছু শিখে নিই।

এবার কথা বলি বই নিয়ে। শরীফ মুহম্মদ সবার চাইতে ভিন্ন। একটু আলাদা থেকে সৃজনের প্রচেষ্টা হতেই হয়তো তিনি আবির্ভূত করেন তার গদ্যাদি। ছোট ছোট শব্দ-বাক্য। দক্ষ নির্মাতার মত তার নির্মাণশৈলী। প্রতিটিতেই যেন ঝরে পড়ছে সুবিস্তৃত অর্থের মাকালগুলো। এটা আমার কাছে সবচাইতে ভাল লেগেছে। হাসি কান্নার মিশ্রণে খলবলিয়ে ওঠা দুরন্ত শৈশবের সেসব বয়ান, থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলবার মতই অনেকটা।

শরীফ মুহম্মদের এ শৈশবকথন, এ দুরন্তপনা কিংবা মখমলরঙা ফেলে আসা স্মৃতির পাতা; এসবের ভেতর আমি কেমন যেন নিজের সঙ্গে প্রচণ্ড মিল খুঁজে পেয়েছি একবার আবার হয়তোবা কখনো নিজের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্রই খুঁজে পাইনি।

যখন উচ্চারিত হচ্ছিলো বারেবারে হাফেজ্জী হুজুরের নাম কিংবা কখনো আব্দুল হাই পাহাড়পুরী, আমার ভেতরে তখন ঢেউয়েরা দোলা দিতে থাকলো অদ্ভুত অভিনবে। গর্ভে ভরে à