সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নতি কল্পনাও করা যায় না। আর জাতীয় উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাথমিক শিক্ষা। একটা ভালো বীজ থেকেই সম্ভব একটা গাছ মহীরূহ হয়ে ওঠা, তেমনি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ গঠন ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদে অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক জীবনধারণের উপকরণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭ (ক), (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদে বালক-বালিকাদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাসহ নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
এ জন্য ১৯৯২ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয় এবং সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তিসহ নানা ধরনের উৎসাহমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করে। এ ছাড়া শিক্ষাকে এখন প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের সংগঠনসহ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে, একজন আদর্শ শিক্ষক পারেন গোটা জাতিকেই পরিবর্তন করতে। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে সেই আদর্শ শিক্ষকই যেন আজ সোনার হরিণ। গোটা সমাজ খুঁজে ক’জন সত্যিকারের আদর্শ শিক্ষক খুঁজে পাওয়া যাবে?
প্রসঙ্গত, আদর্শ শিক্ষক তিনিই, যিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকবেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকবেন, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি স্নেহ ও দায়িত্বশীল হবেন, পড়ানোর পূর্বে পাঠ সম্পর্কে অবগত হবেন, পাঠ্যের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে যার পড়াশোনা থাকবে। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমান চিত্র যে প্রায় বিপরীত।
মনে রাখা চাই- মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দুর্বল রেখে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভালো কিছু আশা করা বাতুলতা মাত্র।
প্রাথমিক শিক্ষার মান কীভাবে আরও উন্নত এবং একই সঙ্গে একে প্রাইভেট টিউশনমুক্ত করা যায়, তার কর্মপরিকল্পনা করতে হবে। এ কর্মযজ্ঞ বাস্তবà¦