সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


একজন ইমাম গাজালি; জ্ঞান চর্চাই ছিল যার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মাদ
আওয়ার ইসলাম

ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) ছিলেন একাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেম আবু হামিদ আল গাজালি রহ.। ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ইরানের তুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যিনি আজ পরিচিত “حجة الإسلام‎” (হুজ্জাতুল ইসলাম– ইসলামের সাক্ষ্য) নামে।

মহান এই মনীষীর ছোটকাল থেকেই জ্ঞান সাধনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও আগ্রহ আজ তাকে বিশ্ব দরবারে যুগ শ্রেষ্ঠ দার্শনিক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। জ্ঞান চর্চাই ছিল যার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।

শিক্ষা জীবনের শুরু

আবু হামিদ আল গাজালি রহ. ফার্সিভাষী পরিবারের উত্তরসুরি হয়েও আরবি ভাষায় ছিলেন সাবলীল এবং অন্যান্য মুসলিম মনীষীর মতো আরবি ভাষাতেই লেখালেখি করেছেন।

ইসলামের মৌলিক জ্ঞান ও ইসলামি আইনে তিনি অল্প বয়সেই ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। শাফেয়ি মাজহাবের প্রখ্যাত আলেম আল জুয়াইনি ছিলেন তার অন্যতম শিক্ষক।

তুস শহরে তার উস্তাদ ছিলেন ইমাম রাদাখানি এবং পরে চলে যান জুরান শহরে সেখানে উস্তাদ ছিলেন হযরত ইমাম আবু নসর ইসমাইল রহ.। তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠতম ধর্মতত্ত্ববিদ আলেম ইমামুল হারামাইন আল জুয়াইনি, আল্লামা আবু হামিদ আসকারায়েনি, আল্লামা আবু মুহম্মদ জুবায়নি প্রমুখ মহাজ্ঞানী উস্তাদের কাছে তিনি শিক্ষা লাভ করেন।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দার্শনিকদের মতবাদও তিনি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করেন নিজেকে সে সব  বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

বিজ্ঞান চর্চায় গাজালি

প্রাচ্যবিদরা (Orientalist) ঢালাওভাবে অভিযোগ করেন যে ইমাম গাজালির দর্শন ও যুক্তি ইসলামের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে ।

তাদের এহেন অভিযোগের ভিত্তি হলো তিনি ইবনে সিনা ও আল ফারাবির মতো বিজ্ঞানীদের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ভ্রান্ত প্রতিপন্ন করেছিলেন, যারা ছিলেন তৎকালীন বিশ্বে বিজ্ঞানচর্চার অগ্রদূত। মূলত বাস্তবতা ছিল অবশ্যই ভিন্ন।

ইমাম গাজালি তৎকালীন বিজ্ঞানীদের দর্শনগত ধারণার সাথে মতানৈক্য পোষণ করেন, যারা ছিলেন গণিত ও বিজ্ঞানের বিখ্যাত সব গ্রন্থের রচà§