শুভ সন্ধ্যা, হে পৃথিবী!
বিমুগ্ধ বিস্ময়ে তোমার ভালোবাসা জড়ানো, আবেগময় কথাগুলো শুনলাম। প্রিয় পৃথিবী, বিশ্বাস করো! তুমি আজ তোমার এমন এক অঙ্গের প্রতি তোমার হৃদয় নিংড়ানো উদ্দিপ্ত আহবান করেছো, যে অঙ্গ তোমার ব্যথায় ব্যথিত। সুখে-দুঃখে সর্বদাই তোমার পাশেই যার অস্তিত্ব।
আজ তুমি আমাকে সারা বিশ্বময় আমার অতীত শাসনের সেই সোনালি দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছো। যার স্মরণ কেবলই আমার অনিরুদ্ধ হৃদয়ের যন্ত্রণাকে ক্রমশ বাড়িয়ে দেয়।
তুমি তো জানোই, একটা সময় এমন ছিলো, যখন আমি ছিলাম তোমা হতে সম্পূর্ণ পৃথক একটি সত্ত্বাসম। আমার না ছিলো কোন মূল্য, না ছিলো ঐশ্বর্য, না ছিলো বিত্তবৈভব আর না ছিলো প্রভাব প্রতিপত্তি। তুমি তো আমার অধিবাসীদের দিকে চোখ তুলেই তাকাতে না!
তাদের ব্যাপারে তোমার কথিত সভ্যসমাজকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা কি বলতো জানো? বলত- আরে, এরা তো গ্রাম্য বেদুঈন, মেষপালক, উটের রাখাল। পশুর চামড়ায় এদের বসবাস। তবে টুকিটাকি শুদ্ধভাষায় কথা বলে। এই আর কি! সভ্যতা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান বলতে এরা কিছুই বোঝে না।
প্রিয় ধরণী, ওরা তো যা বলার বলেছে। কিন্তু তুমি মোটেই এর দায়ভার এড়াতে পারো না। কারণ কি জানো? এই অহমী কথাগুলো তারা সেই সময় বলতো, যখন রোম-পারস্য নামক তোমার অহংকারী অঙ্গগুলো, সভ্যতার উচ্চশিখরে পৌঁছেছিলো, আর তুমি সুরম্য অট্টালিকা, সৌখিন আসবাব আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিধেয় পরে রঙ্গিন সাজে সেজেছিলে।
কিন্তু তুমি কি সত্যটা জানো? বস্তুত এ সবই ছিলো ধোঁকা। তোমার জীবনের আলোকপ্রদীপ ছিলো নিভুনিভু। তোমার অন্তরের উত্তাপ হয়ে গিয়েছিলো হীমশীতল। আর নবী রাসুলদের হেদায়াতী বাণী, তোমার হৃদয় থেকে উজাড় হয়ে গিয়েছিলো।
জানো! এই সব কিছুর কারণ ছিলো বিত্তবানদের আয়েশী জীবন আর বুভুক্ষদের বাঁচা মরার লড়াই। প্রজাদের উপর রাজাদের নিপীড়ন আর ক্ষুদ্র জীবনের অসীম লালসা।
তুমি তো জানোই. এগুলো এমন কিছু উপাদান, মানুষের অন্তরে ভালো কিছু প্রবেশ করার মত সামান্য ছিদ্র রাখে না।
ঠিক তাই হয়েছে। এসব কিছু জনজীবনে সময়ের কোনো ফুরসৎ রাখেনি। ধৈর্যের কোনো বাঁধ রাখেনি।
নতিজায় তোমার অবস্থা এমন সুকরুণ হলো যে, তোমার সুবিশাল বক্ষে এমন কাউকে পাওয়ায় যেত না, যে কিনা তার দীন-ধর্ম বা