সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


‘আল্লামা’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আতাউর রহমান খসরু

জ্ঞানী-গুণী ও সম্মানিত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন উপাধি ও লকবের ব্যবহার নতুন নয়। উপাধি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে মানুষকে সাহায্য করে। তার প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরে।

আল্লাহ তায়ালাও পবিত্র কুরআনে তার নবীদের বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেছেন। যেমন হজরত ঈসা আ. কে ‘মাসিহ’ উপাধিতে উল্লেখ করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সা.ও তার সাহাবি গুণাগুণ বিচার করে নানা উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তিনি হজরত আবু উবায়দা আমের ইবনুল জাররাহ রা. কে ‘আমিনু হাজিহিল উম্মাহ’ উপাধি প্রদান করেন।

হজরত সাহাবায়ে কেরাম রা. এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এমন বহু উপাধি বিভিন্ন ক্ষেত্রের পুরোধা ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে শায়খুল ইসলাম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমামুল হারামাইন, শায়খুল হিন্দ, মুজাদ্দিদে জামান, ইমাম আজম, শায়খুল হাদিস, শায়খুল কুররা ইত্যাদি।

ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন বিষয়ে পণ্ডিতদের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত আরেকটি উপাধি ‘আল্লামা’। যার অর্থ মহাজ্ঞানী ও পণ্ডিত।

কামুসুল আলকাব গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘আল্লামা’ মুবালাগার সিগা (যা কোনো দোষ বা গুণের আধিক্য বোঝায়)। সাধারণ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য এ শব্দ ব্যবহার করা শুদ্ধ নয়। যদি না ব্যক্তির জ্ঞানচর্চায় গভীর পাণ্ডিত্য ও স্বতন্ত্র অবস্থান না থাকে।

আরবে পরিমিত আকারে আল্লামা শব্দের ব্যবহার বহু পূর্বে শুরু হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এ উপাধিটি প্রথম ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ভারতীয় মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা কবি ও দার্শনিক মুহাম্মদ ইকবালের ব্যাপারে। তিনি ভারতবর্ষের প্রথম খ্যাতিমান ‘আল্লামা’।

তার পূর্বে ভারতবর্ষের জগদ্বিখ্যাত আলেমদের নামের সঙ্গেও এতোটা বিস্তৃত পরিসরে আল্লামা ব্যবহার করা হতো না। তাদের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত হতো মাওলানা বা মৌলভি। খুব বেশি হলে শায়খুল হাদিস।

কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আল্লামা শব্দের ব্যবহার এখন সবচেয়ে বেশি। আর উপমহাদেশের আলেমদের ভেতর বাংলাদেশেই বোধ করি ‘আল্লামা’ শব্দের অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের কোনো এক অঞ্চলের ব্যাপারে রসিকজনরা বলে থাকেন, ‘নাহবেমির পাশ করলেও তাকে সেখানে আল্লামা বলা হয়’।

ঠিক নাহবেমির পাশ করা মৌ