সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


উমামাকে ভালোবেসেছিলাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জারির আরমান
গল্পকার

এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের ঘড়িতে সাতটা বাজতে এখনো চল্লিশ মিনিট বাকি। সন্ধ্যা সাতটার সাউদিয়া এয়ারলাইন্স। ঢাকা টু জেদ্দা। চল্লিশ মিনিট সময় যেন কাটছেই না ইফাদের। একবার হাতঘড়ি আরেকবার লাউঞ্জের লালবাত্তি জ্বলা ঘড়িতে তাকাচ্ছিল। পাশে বসা সদ্যবিবাহিত স্ত্রী উমামা।

দুজনেই সাদা কাপড় পরা। ইফাদের এইটুকু উৎকণ্ঠিত হওয়া স্বাভাবিক। এটা তাদের একসঙ্গে প্রথম ভ্রমণ।  উত্তেজনায় ইফাদ একটু চাপ অনুভব করছিল। এদিকে মাগরিবের নামাজের সময়ও হয়ে গেছে। এয়ারপোর্টে নামাজের নির্ধারিত স্থান আছে।

কিন্তু তারা দুজন লাউঞ্জের একটি কোণা দেখে জামাতে দাঁড়িয়ে গেল। শিউলি ফুলের মতো ছোটছোট বাক্যের সুরা ইখলাস দিয়ে দ্রুত নামাজ পড়াল ইফাদ। নামাজ শেষে সোফায় গিয়ে বসল আবার। কিছুক্ষণ পর স্পিকারে তাদের ফ্লাইটের ঘোষণা শোনা গেল।

২
উমামার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এটাকে ঠিক "দেখা হওয়া" বলা ঠিক না। মানে আমি উমামাকে প্রথম দেখি একদিন বিকালে। আসরের নামাজ পড়ে চা খেতে নিচে নামছি। আমার বাসার নিচেই বইয়ের মার্কেট। বিশেষ করে ধর্মীয় বইপত্র পাবলিশ করা কিছু লাইব্রেরি।

একদম সামনের দোকানটায় দেখি একজন বোরকা পরা মেয়ে দাঁড়িয়ে। কেবল চোখ দুটো দেখা যায়। চা খাব বলে বেরুলাম। কিন্তু চোখজোড়া আমাকে কোথায় যেন একটা টান মারল ধরে। অস্বাভাবিক একটা ভঙ্গি নিয়ে দোকানের অদূরে দাঁড়িয়ে পড়লাম।

আশেপাশে ছোট ভাইবেরাদাররা ঘোরাঘুরি করছিল। ওরা আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে প্র্যাসটিজ পাংচার হওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার এগিয়ে গিয়ে কথা বলাও সম্ভব না। মেয়েটাও আমাকে একটু একটু দেখছিলো যেন লুকিয়ে লুকিয়ে।

আমি একটু আড়চোখে খুঁটিয়ে নিচ্ছিলাম। এঁকে নিচ্ছিলাম আমার নিজস্ব ক্যানভাসে। যেন পরবর্তী সাক্ষাতে দেখে চিনতে পারি। বিশেষভাবে লক্ষ করলাম ওর জুতোজোড়া। এছাড়া কিছু লক্ষ করার ছিল না। দেখলাম দোকানের ছোকরার কথা শুনে একটু হাসল। দেখলাম না ঠিক, শুনলাম।

ছোটখাটো নিশ্বাস ফেললাম আর "কী কথা তাহার সাথে, তার সাথে" আওড়াতে আওড়াতে সেদিনের মতো চা খেতে গেলাম।

প্রায় ছয় মাস। যত বোরকা পড়া মেয়ে দেখি, আগে পায়ের দিকে তাকাই। একজোড়া সোনালি ফিতার জোতা খুঁজি। কোথাও দেখা নেই তার...

৩
ছয় ঘন্টা জার্নির পর জেদ্দায় নামল ইফাদ উমামা। নেমেই জেদ্দা থেকে মক্কার দিকে যাত্রা। বুকিং দেয়া হ