সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


নতুন জীবনের পয়গাম নিয়ে দুয়ারে এসেছে ঈদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সাজ্জাদ আকবর : দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে সীমাহীন আলোর ঝলক নিয়ে ওঠে ঈদের চাঁদ। আকাশের ফিরোজা পর্দা ছিন্ন করে গ্রহ তারার মাহফিল জমিয়ে হেসে ওঠে শাওয়ালের একফালি বাঁকা চাঁদ। নিয়ে আসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির সওগাত। ঈদের সেই চাঁদ দেখে আমরা হর্ষিত হই। সারা বছরের দুঃখবিভেদ ভুলে জড়াই ভালোবাসার আবেগময় পরশে।

ঈদ মানেই তো নবজীবনের স্পন্দন, সম্প্রীতির বন্ধন। ঈদ মানেই আত্মস্বার্থের বলিদান, পরার্থপরতার কৃচ্ছ্রতাসাধন। ঈদ মানেই ভ্রাতৃত্বের সৌরভে মৌ মৌ করা ঈদগাহ। ঈদ মানেই পাঁচতলার আয়েসীজন গাছতলার রিক্তজনের সাথে একাকার হয়ে যাওয়া। যতো গান আছে জীবনে ছড়ানো, যতো প্রীতি আছে হৃদয়ে জড়ানো, যতো গীতি আছে আনন্দ ভরানো-পবিত্র এই ঈদে সবই ছলকে ওঠে। ঝলকে ওঠে বিদ্যুতের মতো।

আচ্ছা,কার জন্য পবিত্রতম এই ঈদ? ভোগের পেয়ালায় ঠোঁট ভিজিয়েছে যে-তার জন্য? সাহরি ইফতারের পবিত্রতার স্পর্শ যে গ্রহণ করেনি যে, তার জন্য? না,বরং ঈদ শুধু তাদের জন্যে, যারা দিন কাটিয়েছে সিয়ামে আর রাত কাটিয়েছে কিয়ামে। রোজাকে বানিয়েছে ঢাল। আর ঢালকে করেছে দৃঢ় থেকে সুদৃঢ়। যারা সামর্থ্যের হাত ভরে বিলিয়েছে মানুষকে। গরিবকে বুঝিয়ে দিয়েছে তার পাওনা।

ঈদ তাদের জন্য নয়, যারা সিয়াম পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ঈদ নয় কোনো শিল্প সঙ্গীতের আসর। ঈদ নয় টিভি সিনেমার সস্তা বিনোদন মহড়াও। ঈদ হলো,দীর্ঘ সিয়াম সাধনা শেষে আল্লাহর সমীমেপ বিনীত উপস্থিতি। ঈদ হলো তাঁর স্তুতিগানে মুখরিত একদল বিনম্র মানুষের ঈদগাহের দিকে ছুটে যাওয়া। তাঁর মহিমা কীর্তনে উচ্ছ্বসিত হয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে আকাশে বাতাসে তাঁর বড়ত্বকে ছড়িয়ে দেয়া।

তবে হাসিখুশি আর আনন্দই ঈদের সারকথা নয়। বরং আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে মানবচিত্তকে উজ্জীবিত ও প্রসারিত করাই ঈদের মর্মবাণী। জাতীয় এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত আছে সম্পদের সুষম বণ্টনের অনিবার্যতা। আছে জাকাতের অপরিহার্য প্রাসঙ্গিকতা এবং ধনীদের সঙ্গে গরিব দুখী ও দুস্থরা জাতীয় আনন্দে সমান অংশীদার হয়ে ওঠার অনুষ্ঠান এ ঈদ। ঈদ সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুমহান প্রণোদনা।

এই সাম্য আর ভ্রাতৃত্ব মূলত ইসলামের দর্শন। নিছক আনন্দ আর ভোগের নামই নয় জীবন।ইসলামপূর্বযুগে আরবে নওরোজ ও মেহেরজান নামে দুটি বার্ষিক উৎসব প্রচলিত ছিলো। সেই সব উৎসবে সামর্থ্যবানরা যথেচ্ছ ফূর্তি করতো। এই উৎসব তাই নবীজির কাছে পছন্দ হলো না।যেখানে ত্যাগ নেই, যেখানে সামাজিক সাম্য অবি