বাংলা ভাষায় ইসলামি ধারার সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন। আলেম, চিন্তক ও কুশলী বুদ্ধিজীবী। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গলিঘুপটি যার নখদর্পণে। শক্তিমান শব্দের গাঁথুনিতে বাংলা ভাষায় যারা বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানের আলো বিতরণ করছেন, মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন তাদের অন্যতম।
প্রয়োজনের খাতিরে অসংখ্য অনুবাদ করলেও মৌলিক লেখার হাতই তার সবচেয়ে বেশি উজ্জ¦ল। অনুবাদ ও মৌলিক মিলিয়ে এ যাবত সত্তর-ঊর্ধ্ব বই লিখেছেন তিনি। সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান থেকে আজকের সব ধারার ছোট-বড় মিডিয়ায় তার অবাধ পদচারণ। লাখ লাখ পাঠকের মন কেড়েছেন তিনি। জয় করেছেন সাহিত্যপ্রেমীদেরও হৃদয়রাজ্য।
ঘনিষ্ঠ আলাপে তার লেখকজীবনের টুকিটাকি তুলে এনেছেন তরুণ কবি ও সাংবাদিক, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজরুম এডিটর সুলাইমান সাদী।
সুলাইমান সাদী : আপনি লেখালেখির প্রথম প্রেরণা কোথায় পান?
মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন : এ বিষয়ে বলতে হলে আমাকে দুটি জায়গা ছুঁতে হবে। এক. আমি যখন স্কুলে পড়ি, যখন আমি নিতান্ত শিশু, তখনই সাহিত্য-লেখালেখি আমাকে নাড়া দেয়। ওই বয়সটাতে একজন শিশুকে যে বিষয়গুলো টানে ছড়া, কবিতা, গল্প, ইত্যাদি আমাকে খুব টানত। ধীরে ধীরে আমার ভেতরে ওইরকম একটা মন গড়ে ওঠে। লেখালেখি, কবিতার সান্নিধ্য, সাহিত্যের সান্নিধ্য তখন থেকেই আমার ভালো লগত। বলতে পারি, চরিত্রগতভাবেই আমার মধ্যে বিষয়গুলো ছিল।
দ্বিতীয়. আমি যখন স্কুল থেকে মাদরাসায় এলামÑ সেটা আমার ষষ্ঠ শ্রেণির বছর। এখন থেকে প্রায় তিন দশক আগের কথা। নব্বইয়ের দশকের একেবারে গোড়ার দিকে। ১৯৮০-৮১ তখন। ওই সময়ে আমাদের বাংলাদেশে যে কওমি মাদরাসা, তার যে চরিত্র তখন বাংলা ভাষা থেকে অনেক দূরে, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলতে গেলে অনেকটা বিমুখ।
এটা বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না, কোথাও কোথাও বাংলা ভাষাকে নিজেদের বিশ্বাস ও চেতনার প্রতিপক্ষ মনে করা হতো। এইরকমের একটি প্রতিকূল পরিবেশে আমাদের লেখালেখির সূচনা হয়। এজন্য আমাদের জীবনে এটা অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন, এ প্রেরণাটা আমরা কীভাবে পেলাম?
এ ক্ষেত্রে খুবই শ্রদ্ধার সঙ্গে, খুবই গর্বের সঙ্গে যার নাম উচ্à¦