সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


নীরবে কাঁদেন হাফেজ মুনির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুফিয়ান ফারাবী

বংশপরম্পরায় ধনী হাফেজ মুনিরের বাবা। তার দাদা ছিলেন মস্তবড়ো জমিদার। সেখান থেকে কয়েক বিঘা জমি পেয়েছেন হাফেজ মুনিরের বাবা।

হাফেজ মুনিররা চার ভাইবোন। তিন ভাইয়ের মাঝে তিনি সবার ছোট। তার ছোট একটি মাত্র বোন। গতমাসে বিয়ে হয়েছে বৃত্তবান পরিবারে। তাছাড়া ছেলেও সরকারি সেকেন্ড ক্লাস চাকরি করছেন। বড় আয়োজনে বিয়ে হয়েছে তাদের।

পরিবারে একটি মাত্র বোন থাকায় আদরে কমতি করেননি ভাইয়েরা। দু’হাত ভরে পাঠিয়েছেন ছেলের বাড়িতে।

মেজো ভাই ফরহাদ পেশায় ডাক্তার। বোনের বিয়েতে উপঢৌকন হিসেবে তিনি খরচ করছেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। এছাড়াও খাবারের আয়োজনে দিয়েছেন আরও দশ হাজার। সবমিলিয়ে অংকটি ষাটে গিয়ে দাঁড়ালো।

হাফেজ মুনিরের ছোট ভাই বিলেত থাকেন। নাম মাহফুজ৷ দুবাইয়ে তার বিশাল ব্যাবসা। বোনের বিয়েতে আসতে পারেননি ঝামেলায় পড়ে। তবে তার অনুপস্থিতি টের পাওয়া যায় নি। তিনি বিয়ে উপলক্ষে বোনের জন্য পাঁচ ভরি সোনার গহনা পাঠিয়েছেন।

এই কথা গোপন থাকলো না। সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লো ‘রমজানের পোলা বইনের লাইগা পাঁচ ভরি সোনা পাঠাইছে’। এক কথায় কয়েকদিনের জন্য আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করলেন মাহফুজ। তাই বলা চলে বিয়েতে না থেকেও কেমন যেন উপস্থিত ছিলেন তিনি।

অবশ্য হাফেজ মুনিরের ভাই মাহফুজ তাতে খুশি হলেন না। তিনি ভাবছেন, ‘ছোট বোনের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারলাম না। ব্যবসা নিয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে।’ তাই তিনি ছোট বোনকে জানালেন, আগামী মাসে দেশে ফিরছি। তোর কী লাগবে বল। আমি নিয়ে আসবো।

ছোট বোন বললো, আপনি বলেছেন এতেই খুশি। আমার কিছু লাগবে না।

আজ মরিয়মের বিয়ে। পাঁচশো মানুষের আয়োজন করেছেন রমজান মিয়া। খাবারের আইটেমও হরেকরকমের। গ্রামাঞ্চল হলেও বুফ সিস্টেম খাবারের ব্যবস্থা করেছেন রমজান মিয়া।

এদিকে সাজঘরে বধু সাজাচ্ছেন মরিয়মের বান্ধবীরা। ছেলের বাড়ি থেকে ছয় ভরি স্বর্ণ এসেছে। দুবাই থেকে মরিয়মের ভাইয়ের পাঠানো স্বর্ণ ও ছেলের বাড়ি থেকে আসা স্বর্ণ মিলে এগারো ভরি হয়েছে। স্বাভাবিক সাজগোজে যা প্রয়োজন, কিছুই বাদ যায় নি।

বান্ধবীরা মরিয়মকে সাজাচ্ছে আর বলছে, কিরে, তোর তো কিছুই বাদ যায় নি। সবই দেখি পেয়েছিস। এরকম বাবা, ভাই আর স্বামী থাকলে মেয়েদের আর কিছু লাগে না। তোর কপালটা পুরো আট ইঞ্চি। রাজ কপাল নিয়ে জন্মেছিস।

মরিয়ম হেসে ফেললো। আসলেই কথা সত্য। মরিয়মের ভাগ্য ভাল। বাবা, ভাইদের কাছ থেকে যা পেয়েছে তা নেহায়েত কম নয়।

এরমধ্যেই একজন জিজ্ঞেস করল, তোর বড় ভাই কী দিয়েছে তোকে?

কথা শুন