সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

বিপন্ন মানবতা ও প্রাণশক্তির ঈদ : নতুন পৃথিবীর তাকবীর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুসা আল হাফিজ, কবি ও গবেষক


মিথ্যার কোলাহল থামিয়ে দাও, হিংসার হলাহল সরিয়ে দাও, ধ্বংসের বিভীষিকা নিভিয়ে দাও, প্রতারক মরীচিকা খেদিয়ে দাও—এখন ঈদের সংগীত শুরু হবে। আমাদের আকাশে চিত্তজয়ের চাঁদ উদিত হচ্ছে। এগিয়ে আসছে জীবনের গতিময় ছন্দধারা, ঈদে শোনা যায় তার হর্ষিত হাসি। ভেঙে যাচ্ছে স্থবিরতার বন্ধ কারা, ঈদে শোনা যায় তার পরাজিত গোঙানি।

ঈদ মানেই নবজীবনের স্পন্দন, সম্প্রীতির বন্ধন। ঈদ মানেই পশুত্বের ক্রন্দন, মানবিক নন্দন। ঈদ মানেই যে শক্তি আত্মাকে মহীয়ান করে, সেই শক্তির পরাক্রম। মানুষের আনন্দ আর পশুত্বের আনন্দের মধ্যে ভেদরেখা টেনে দেয় ঈদ, জাহেলিয়াত আর আসমানী হেদায়েতের পার্থক্য জানিয়ে দেয় ঈদ।  আত্মপূজারি আর স্রষ্টাপূজারির ভিন্নতা জানিয়ে দেয় ঈদ। আত্মপ্রতারক আর জীবনসাধকের স্বাতন্ত্র্য জানিয়ে দেয় ঈদ। ভোগের অন্ধত্ব আর ত্যাগের আনন্দের ভিন্নতা ব্যক্ত করে ঈদ। কিন্তু ঈদকেই তো এখন ভোগের মহোৎসব বানাতে চায় বহুজাতিক স্বার্থপর।

ঈদকেই তো এখন আদর্শবর্জিত বাণিজ্যমেলায় রূপ দেওয়ার তোড়জোড় চালায় পুঁজির খেলোয়াড়। ঈদকেই তো এখন অশ্লীল কামনার আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ইন্ধন জোগায় মিডিয়ার তস্কর। কিন্তু তবু ঈদ আসে। বিরল আনন্দের সূর্যরশ্মিতে কুসুমেরা হাসে। বৃক্ষের শিরে শিরে ছড়িয়ে পড়ে নতুন চাঁদের পয়গাম। দিগন্তের তীরে তীরে জেগে ওঠে জীবনের সুবাতাস। হর্ষের পাখিরা গেয়ে ফেরে মিলনের সংগীত। ঘরে ঘরে নেমে আসে সুললিত কুহুতান।

পরিশুদ্ধির আবেগে আন্দোলিত হয় চারপাশ। ভ্রাতৃত্বের সুরভিতে মৌ মৌ করে ঈদগাহ। সাম্যের ছবি জাগ্রত হয় অমোঘ স্বপ্নের মতো। পাঁচতলার আয়েশিজন একাকার হয় গাছতলার রিক্তজনের সাথে। যতো গান আছে জীবনে ছড়ানো, যতো প্রীতি আছে হৃদয়ে জড়ানো, যতো গীতি আছে আনন্দ ভরানো, সবই ছলকে ওঠে। ঝলকে উঠে বিদ্যুতের মতো।

ছন্দময় নদীর মতো ভালোবাসা জাগে। আনন্দময় মদির মতো নেচে ওঠে সুন্দরের প্রজাপতি। স্বাচ্ছন্দ্যময় হৃদির মতো প্রস্ফুটিত হয় অনুভাবের নতুন গোলাপ। গোলাপটি প্রত্যেক মুমিনের মনে মনে। তার ছায়ায় লুকিয়ে আছে অজানা এক মায়ার কায়া। হঠাৎ প্রাণের তরঙ্গ তুলে তার চারপাশে জেগে ওঠে উৎসব। কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্য। তা সামান্য সময়ের দুর্বার আনন্দমাত্র। সেই আনন্দ জীবনকে করতে পারে না সুরভির গুলশান।

কারণ, ঈদে আমরা পশু কুরবানী করি বটে, কিন্তু মনের পশুটাকে তোà