শেষ হয়েছে এ বছরের পবিত্র হজের যাবতীয় ইবাদাত। হাজিগণ ফিরতে শুরু করেছেন নিজ নিজ দেশে। পবিত্র স্থানের পরশে সকলের অন্তরে জান্নাতি আবেশ। অবশিষ্ট জীবন গুনাহ মুক্ত থাকাই যেন তাদের লক্ষ্য। পবিত্র হজ থেকে আহরিত আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে পেরে প্রভুর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন হাজিগণ। বাকি জীবনটা কাটাতে চান শুদ্ধতার আবেশে।
‘কেমন হতে পারে একজন হাজির হজ-পরবর্তী জীবন’ এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মানিত উপ-পরিচালক, পীরে কামেল শায়খুল হাদিস ড. মুশতাক আহমদের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলামের বিশেষ প্রতিবেদক সুফিয়ান ফারাবী।
হজকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন। হজের গুরুত্ব কেমন, হজ জিনিসটা কী?
সংক্ষেপে হজ সম্পর্কে আমরা যা বুঝি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এরশাদ করেছেন (আল হাজ্জু ইয়াহদিমু মা কান কাবলাহূ) হজ মানুষের আগের সমস্ত গুনাহ খতম করে দেয়। হজের উসিলায় আল্লাহ পাক বান্দার সগীরা-কবিরা এবং যত রকমের ভুল-ত্রুটি আছে, সব ক্ষমা করে দেন।
এতটা ক্ষমা করেন যেন সে এইমাত্র মায়ের উদর থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছেন। পবিত্র হজের কারণে মানুষ এরূপ নিষ্পাপ হয়ে যায়। সংক্ষেপে বলতে পারি- হজ এমন একটি ইবাদত যা বান্দার সকল প্রকার গুনাহ অন্যায় ভুল-ত্রুটি ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেয়। এ হল হজের একটি পরিচয়।
হজের আরেকটি পরিচয় হলো- এর মাধ্যমে বান্দা রূহানিয়্যাতের পথে উর্ধারোহনের সর্বোচ্চ স্তর ‘মাকামে তাদাল্লি’ লাভ করে। পবিত্র কুরআনের বানী ‘ছুম্মা দানা ফাতাদাল্লা ফাকানা কাবা কাউসাইনে আও আদনা’ থেকে উলামায়ে আহলে বাতিন ইশারা পেয়ে থাকেন।
কথাটির ব্যাখ্যা হল; এখানে মোট পাঁচটি স্তর আছে। এক. ঈমান, দুই. নামাজ, তিন. যাকাত, চার. রোজা, পাঁচ. হজ। স্তরগুলো ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে সাজানো। ঈমানের দ্বারা ব্যক্তি আল্লাহ পাকের সাথে পরিচিত হয়।
তখন আল্লাহ পাকের সঙ্গে যে নেসবত হাসিল করে, সেটাকে বলে মাকামে “তাআরুফ”। তারপর হল দৈনন্দিনের নামাজ। নামাজ দ্বারা ব্যক্তি পরিচিতি পর্ব থেকে অগ্রসর হয়ে পারষ্পরিক প্রগাড় সম্পর্কের দিকে উন্নতি লাভ করে। এই নিসবতকে বলা হয় মাকামে “তাআল্লুক”।
তারপর হল যাকাতের আমল। যাকাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় পারষ্পরিক সম্পর্কের শুদ্ধà¦