সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


তুমি নেই কিছু নেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ আশরাফ ।।

ব্যথাতুর হৃদয় নিয়ে ঘুরাফেরা করি। সবসময় শাহ সাহেবের কথা। যেখানে যাই সেখানেই তাঁর আলোচনা। মসজিদে প্রতিওয়াক্ত নামাজের পর এলান, শাহ হুজুরের জন্য দুআ চাই।

অশ্রুতে ভরে ওঠে চোখ। ওই মানুষটা কি সত্যই অনেক অসুস্থ? বিশ্বাস হয় না। তিনি এমন অসুস্থ হতেই পারেন না, যা তাঁকে আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেবেন। কী সুন্দরভাবে চলেন! কী সুন্দরভাবে কথা বলেন!

প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, আবার সুস্থতার সঙ্গে ফিরে আসেন আমাদের মাঝে। এগুলো কিছুই না। তিনি আমাদের মাঝে আবার ফিরে আসবেন। এমন একটা আশা নিয়ে পথ চলি, কথা বলি।

মাঝেমধ্য রোগাক্রান্ত ছবি দেখে কষ্ট পাই। মানুষটার এমন ছবিগুলো দেখে ব্যথা পাই। সুযোগ পেলে মন্তব্য করি। রাগে অনেককে আবিজাবি বলি। আবার নিজেকে প্রবোধা দিই। সব ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পরীক্ষা নিচ্ছেন।

হুজুর দেশে ফেরেছেন শুনে বারবার চেষ্টা করি হাসপাতালে যেতে। কিন্তু পরীক্ষা থাকায় যেতে পারিনি। ইজতেমা থেকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল, তাও হয়ে ওঠেনি। সেখানে গিয়ে সুযোগ করতে পারিনি। মাদরাসায় এসে আবার ফলাফল ও খাতা দেখা নিয়ে ব্যস্ত।

ফেসবুক ও পীর সাহেব হুজুর কিশোরগঞ্জী থেকে সংবাদ নিই। হুজুর নিত্যদিন খবর নিচ্ছেন। শাহ সাহেব হুজুরের পরিবারের একজন যেন। আতহার আলী রহ. থাকতেই এ পরিবারের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা।

গতকাল এশার পর কম্পিউটার বসে কাজ করছিলাম। তালীমাত সাহেব বললেন, শাহ সাহেব হুজুর মারা গেলে কোথায় জানাজা হবে? আমি এ বাক্যটা সহ্য করতে পারিনি। একটু কঠিক বাক্য বললাম, আপনি এ কি বলছেন? হুজুর মারা গেলে মানে? একটু চটে গেলাম। আমি এমনই। হুজুরের ব্যাপারে কেউ কিছু বললে চটে যাই।

হুজুর অসুস্থ। অনেক অসুস্থ। কিন্তু আমার হৃদয় বলছিল, হুজুর ফিরে আসবেন। আবার দেখা হলে বলবেন, 'তোরে দেখলে তোর বাবার কথা মনে পড়ে যায়'। এ কথা বলে, একটা শ্বাস ছাড়তেন।

মাওলানা ইসমাঈল সাহেব কিশোরগঞ্জী হুজুর ও আব্বা এক সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন জামিআয়। শাহ সাহেব হুজুরের প্রথম বুখারির ছাত্র ছিলেন বাবা শাইখুল হাদিস আশরাফ আলী রহ.। বাবা ছিলেন অন্য রকম। পড়াশোনা ছড়া কিছুই বোঝতেন না। আর উস্তাদদের পেলে সব ভুলে যেতেন। তাদের খেদমত করতেন। ছাত্রকালিন বাবা সবসময় সুযোগ খোঁজতেন। একটু সুযোগ পেলেই শাহ হুজুরের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন। হুজুর এখন খালি। ক্লাস করাতে হবে।

শাহ সাহেব হুজুর একটু আরাম প্রিয়। শাহ নামের সঙ্গে তাঁর চলন বলন ও কথাবার্তার ভীষণ মিল ছিল। বাবা সেগুলো বোঝতেন না। সুযোগ পেলেই চলে যেতেন বাসায়। বায়না ধরতেন ক্লাসের। বাবাকে দেখে শাহ সাহেব হুজুর বলতেন, 'আমার দারগা এসে পড়েছে। আর থাকা যাবে না'।

শাহ সাহেব হুজুর রহ. দারগা বলে ডাকতেন বাবাকে। নাম ধরে ডাকতেন না। থানভী রহ. সঙ্গে মিলে যাবে। আশরাফ আলী বলতে গিয়ে একটà§