হারুন আনসারি তালুকদার ।।
খুব ছোটবেলায় ভোররাতে মসজিদে ফজরের আযান হয়েছে কেবল। বাসায় বিছানায় উদোম গায়ে শুয়ে ছিলাম সুখনিদ্রায়। হঠাৎ সারা গায়ে হাত বুলানো আদরের পরশ পেলাম । দরদমাখা কন্ঠে আব্বা বললেন, ‘আহারে, আমার আব্বার একটি গেঞ্জিও নেই গায়ে।’ কথাটি শুনে আমার মাঝে ভালবাসার কি যেনো এক শিহরণ খেলে গেলো সারা শরীরে। পিতৃস্নেহের এই স্মৃতি এখনও আমাকে নাড়া দেয়। আমার আব্বার এমন অসংখ্য স্মৃতি জড়ানো আমার এ জীবন।
আমার পিতা মওলানা মুয়ীনুদ্দীন আহমেদ তালুকদার (লুৎফুল্লাহ)। পেশায় আইনজীবী ছিলেন। ১৯৩৫ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করে ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ দিবাগত রাতে ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আপন রাসুলের মতো জন্মমৃত্যুর এমন সাদৃশ্য নিয়ে এসেছিলেন তিনি পৃথিবীতে। মৃত্যুর পরেও গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসা নিয়ে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন তাঁর কর্মময় জীবনের মাধ্যমে।
আব্বা জন্মগ্রহণ করেন তৎকালীন ফরিদপুর জেলার মাজড়া ভাট্টাইধোবা গ্রামে। শৈশবে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রকালে মাত্র ৯ বছর বয়সে জন্মদাতা পিতা আব্দুল হামিদ তালুকদার কে হারিয়ে তিনি এতিম হন। নিজের অক্লান্ত প্রচেষ্টা আর মমতাময়ী মায়ের (আমার দাদি) দোয়ায় তিনি সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তবে তাঁর শিক্ষাজীবনের পথপরিক্রমাটি ছিলো কঠিন আর বন্ধুর। পড়াশুনার খরচ জোগাতে দিনের বেলায় সরকারী চাকরী আর রাতের বেলায় নাইট শিফটে কলেজ করে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
একেবারে শৈশবে ফ্রি প্রাইমারী আর পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ৬ষ্ঠ হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসের ১ম রোলধারী ছাত্র হয়ে বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ লাভ করেন। একারণে স্কুল শিক্ষকদের বিশেষ নজর ও ভালবাসা ছিলো তাঁর প্রতি। তাঁদের আন্তরিকতায় কৃতিত্বের সাথে ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।
এরপর জীবন সংগ্রামের জয়ী হওয়ার অদম্য বাসনা নিয়ে পাড়ি জমান রাজধানীতে। আইএ পাশ করার পর এলজি অ্যাসিষ্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তান সরকারী প্রেসে। এসময় সরকারী চাকরী করার পাশাপাশি কর্মস্থলের অনুমোদন নিয়ে জগন্নাথ কলেজে নাইট শিফটে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৯৫৫-৫৭ সালে বিএ এবং এমএ ১৯৫৯-৬১ সালে এমএ ডিগ্রী অর্জন করে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হল হতে এলএলবি পাশ করেন।
১৯৬৪ সালে ফরিদপুর জেলা