সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


মানাযির আহসান গিলানি: ইতিহাসের নতুন রূপকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

উবায়দুল্লাহ তাসনিম।।

ভারত উপমহাদেশে যে সকল মনীষী বহুমুখী যোগ্যতা ও পান্ডিত্যের অধীকারি ছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন সায়্যিদ মানাযির আহসান গিলানি রহ.। তাফসির, হাদিস, ফিকহ সবশাস্ত্রেই তার ভালো জানাশোনা ছিলো। মাকুলাত (যুক্তিবিদ্যা) শাস্ত্রে তিনি ছিলেন বেশ পারদর্শী।

উনবিংশ শতাব্দীতে লিখনীর ময়দানে যারা আলোড়ন তুলছিলেন, তাদের নামের সাথে ‘মানাযির’ নামটাও আসে। ইসলাম সুরক্ষার তাগিদে তিনি সময়ের ভাষায় উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দিতেন। দেওবন্দি চিন্তাধারা ছিলো তার চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেওবন্দি চেতনায় তিনি নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাইতেন।

জন্ম: ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ২ অক্টোবর মোতাবেক ১৩১০ হিজরীর ৯ রবিউল আওয়াল ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের পাটনা জেলার 'ইস্তানওয়া'তে তার জন্ম। এটা তার নানার বাড়ি। পিতার বাড়ি বিহারের 'নালন্দা' জেলার গিলানে।

তাদের খান্দানের নাম ছিল 'হুসাইনিয়া ওয়াসিতিয়্যাহ'। তাদের খান্দান ছিল মৌলভী খান্দান। তার দাদা মুহাম্মদ আহসান গিলানী ছিলেন বিহারের বড় মাপের একজন মাকূলি (যুক্তিবিদ্যায় পারদর্শি) উস্তাদ। চাচা মাওলানা হাকিম আবু নসর গিলানি দরসে নেজামি পড়ুয়া আলেম ছিলেন। ছিলেন মজবুত হানাফি আলেম। সেসময়ের গায়রে মুকাল্লদিদদের সাথে তার প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক হতো। সে একালায় খুবই বিখ্যাত ছিল তাদের পরিবার।

শৈশব: তার শৈশবটা ছিল দুরন্ত টাইপের। শুধু দুরন্তপনা না; দুষ্টোমি করার সাথে সাথে ভালো রকমের পড়াশোনাও করতেন। একাডেমিক পড়াশোনার চেয়ে গল্প উপন্যাসের প্রতি তার জোঁক ছিলো প্রবল। হঠাৎ ঘরে পাওয়া, উপরের পৃষ্ঠা নেই এমন একটা গল্পের বই দিয়ে তার আউট বই পড়া শুরু।

গল্পের বইগুলোর মাঝে দাস্তানে আমীর হামযা' (উর্দূ) তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। বইটির অনেকগুলো চরিত্রের একটা চরিত্র ছিলো (কাল্পনিক) কাফেরদের উপর (কাল্পনিক) মুসলমানদের বিজয়'। এর প্রভাব কিছুটা পড়েছে তার জীবনের জিহাদি প্রেরণায়। তার ভাষায়, কুফুরের মোকাবেলায় ইসলাম বিজয়ের যে জযবা অামার মধ্যে সদা জাগ্রত,তাতে ওসব কাহীনি -উপন্যাসের কিছু না কিছু দখল অবশ্যই আছে।

শিক্ষা: নিজ বাড়িতেই চাচার তত্ত্বাবধানে কুরআন মজিদ, উর্দূ, ফারসি নাহব, সরফ ইত্যাদি প্রাথমিক পড়াশোনা শিখেন।

চাচার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি পড়াবেন। গ্রামে থাকাকালেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রথমিক দু'য়েকটা বই পড়েও ফেলেছেন। ভাগ্যপুর স্কুলে চাচাজান ভর্তিà