মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান ।।
আগেই বলে রাখি! আমি নিজেই এক মসজিদের খেদমতে আছি। মাহে রমযানে দায়িত্বরত মসজিদে তারাবির নামাজও পড়িয়ে থাকি। এখন লকডাউন সমাচারে মসজিদের ভিতরে আবদ্ধ হয়ে আছি। কোথাও যেতে পারি না, কেউ মসজিদে আসতে পারে না। ইতিপূর্বে ওয়াক্তিয়া নামাজে দু চার শত, আর জুমার নামাজে পাঁচ ছয় হাজার মুসল্লীদের নিয়ে নামাজ পড়িয়ে আসছি।
বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে উলামায়ে কেরাম ও সরকারী দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মাত্র চারজন মসজিদ স্টাফকে নিয়ে নামাজ পড়িয়ে যাচ্ছি। খুব কষ্ট হচ্ছে, অন্তরে সর্বদা রক্তক্ষরণ হচ্ছে, মুসল্লীরা কাঁদছে, মসজিদের প্রধান ফটক/গেইটের বাহিরে মুসল্লীরা দাঁড়িয়ে মসজিদের দিকে ফেলফেলিয়ে তাকিয়ে থাকে।
গত জুমার দিন দেখেছি অনেক প্রিয় মুসল্লী ভায়েরা হাতে জায়নামাজ নিয়ে মসজিদের সামনে এসে গেইট বন্ধ দেখে হাউমাউ করে চিৎকার আর আহাজারি করছে। শেষ পর্যন্ত ভারাক্রান্ত অন্তরে অশ্রুসিক্ত হয়ে ফিরে গিয়েছে। কেউ মোবাইলে খোজ খবর নিচ্ছে আবার কেউ বাহিরে দাঁড়িয়ে দেখা করে যাচ্ছে। জানিনা আর কতদিন এভাবে চলবে.?
হ্যাঁ. কিছু করারও নেই, দেশের পরিস্থিতি খুবি ভয়াবহরূপ ধারণ করে চলছে, দৈনন্দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলছে, আজ প্রায় ২১৯ জনের মাঝে নতুন ভাবে করোনা সনাক্ত হয়েছে। সুস্থতার চেয়ে বেশি মৃত্যু বরণ করছে। আল্লাহ হেফাজত করুন আমীন।
এবার একটু ভিন্ন কথা! দেশ যখন এই সংকটময় পরিস্থিতির দারপ্রান্তে, ঠিক সে মুহূর্তেই বছর ঘুরে মাহে রমযান রহমত মাগফিরাত আর জাহান্নামের মুক্তির পরওয়ানা নিয়ে আমাদের দোরগোড়ায় এসে উপস্থিত হয়েছে। মাহে রমযানে মসজিদে জামাতের সাথে তারবির নামাজ হবে কি না? এ নিয়ে বাংলাদেশের লক্ষাধিক হাফেজে কুরআন অনিশ্চিত পথের পথিকের মত দিশেহারা হয়ে আছে। অনেক মসজিদের নতুন হাফেজের প্রয়োজন আবার অনেক হাফেজের নতুন মসজিদ প্রয়োজন, মসজিদ কমিটি এবং হাফেজে কুরআন উভয় সিদ্ধান্তহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ নিয়ে অনেক উলামায়ে কেরাম ব্যক্তিগত ভাবে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, লেখালেখিও করছেন, আমি নিজেও আমার ফেসবুক পাতায় জাতির কর্ণধার হযরত উলামায়ে কেরাম ও বিজ্ঞ মুফতিগণের প্রতি উক্ত বিষয়ে শরয়ী সমাধানের আবেদন জানিয়েছি। এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে আশার হালও ছাড়িনি।
এদিকে গতকাল পà¦