মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিক।।
‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে মধুমাখা একটি নাম হচ্ছে। মা‘য়ের মতো এমন মধুর শব্দ অভিধানে দ্বিতীয়টি পৃথিবীর কোথাও নেই। ‘মা’ শব্দটি ছোট কিন্তু এর বিশালতা আকাশের চেয়েও বড়। ‘মা’ বলতেই চোখের সামনে মা‘য়ের সদা হাস্যময়ী ও জান্নাতি চেহারা ভেসে ওঠে।
‘মা’ শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা,শীতল পরশ, অকৃত্রিম স্নেহ, আদর, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। ইরশাদ হচ্ছে- ‘তোমার প্রতিপালক এ আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাকে ভিন্ন অপর কারও ইবাদত করো না। পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করো।
যদি তাদের একজন অথবা উভয়ই তোমার নিকট উপনীত হয়; তবে তাদের কখনো ‘উহ’ শব্দ পর্যন্ত বলবে না। তাদের ধমক দেবে না বরং তাদের সঙ্গে মার্জিত কথা বলবে। আর তাদের উদ্দেশ্যে অনুগ্রহে বিনয়ের বাহু অবনমিত করবে। আর বল, (তাদের জন্য দো‘য়া কর) হে আমার প্রতিপালক তাদের উভয়কে অনুগ্রহ কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছে’ (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত:২৩-২৪)।
মা‘য়ের তুলনা মা নিজেই। মা‘য়ের কোনো বিকল্প নাই। পৃথিবীতে বাবা-মা‘য়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোন কিছুর তুলনা প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু এর গুরুত্ব এবং মযার্দা কতটুকু তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
নদীর তলদেশ নির্ণয় করা গেলেও মা‘য়ের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না। এমন দয়ালু এবং মযার্দাবান মানুষটিকে আমরা কতটা সম্মান এবং ভালোবাসা দিচ্ছি? আমাদের যে ‘মা’ দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে তিল তিল করে আমাদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই মা‘য়ের কষ্ট বহুগুণে বেড়ে যায়। রাতের পর রাত জেগে সন্তানের দেখভাল করলেও মায়ের কোনো ক্লান্তি হয় না।
সন্তানের সুখের জন্য হাসিমুখে সব কিছু বিলিয়ে দিতেও ‘মা’ কার্পণ্য করেন না। সন্তানের সঙ্গে মা‘য়ের নাড়ির যে সম্পর্ক রয়েছে তা কখনো ছিন্ন হবার নয়। এই সুন্দর পৃথিবীতে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে দিচ্ছে, আমরা সেই ‘মা’কে বিনিময়ে কি দিচ্ছি? আমরা বিনিময়ে আসলে কিছুই দিতে পারব না। কারণ মা‘য়ের ঋণ কেউ শোধ করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।
মা‘য়ের সন্তান তাঁর জগৎ, তেমনি সন্তানের কাছে তার ‘মা’-ই সব। ‘মা’ এবং সন্তানের মধ্যকার সর্ম্পক সবচেয়ে মধুর। একটি সন্তান যখন খেতে পারে না কথা বলতে পারে না এমন কি নিজের কাজ নিজেও করতে পারে না তখন তাকে আগলে রাখেন মমতাময়ী ‘মা’। পরম মমতার চাদরের উষ্ণতায় আগলে বড় করেন।
সব আবদার ‘মা’ হাসি মুখে মেনে নেন। আমাদের যতটুকু মা‘কে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার কথা ততটুকুই কেউ সঠিকভাবে দিই না। শত কষ্টের মাঝেও ‘মা’ তার সন্তানের গায়ে একফোঁটা আঁচড় লাগতেও দেয় না। সন্তানের হাসি মায়ের হাসি হয়ে যায়। আবু উমামা (রা:)-হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা:)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসু