সুলতান মাহমুদ বিন সিরাজ।।
দেড় দু'মাস আগে কোথায় থেকে পাঁচটি কুকুর আমাদের বাড়িতে এসে অবস্থান করলো। এক, দুই, তিন, চার দিন অতিবাহিত হলো, কিন্তু তারা আর যেতে চাইলো না। কিছুদিন যাওয়ার পর কুকুরগুলো যেনো আমাদের বাড়ির পাহারাদারের দায়িত্ব নিয়ে নিলো। দিন থেকে রাত, রাত থেকে দিন-অতন্দ্রপ্রহরীর মতো আমাদের বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন করতে শুরু করলো! রাতের বেলায় একটা পিঁপড়ের নড়া পেলেই সবগুলো একসাথে ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। ওদের এ কাণ্ড দেখে আমার হৃদয়ে তাদের জন্যে মায়া জন্মালো।
শুনেছি, কুকুর খুব প্রভু ভক্ত হয়। তারা মালিকের সাথে বেইমানি করে না। ওদের যদি প্রতিদিন কিছু না কিছু খাবার দেওয়া হয়, তাহলে তো ওরা রাতে বাড়ি পাহারার দায়িত্বে আরো সচেষ্ট হবে। যেই ভাবা, সেই কাজ। অবশ্যই ইসলাম কুকুর থেকে উপকার পেলে বাড়িতে রাখার অনুমতি দিয়েছে। আমরা প্রতিদিন ওদের কিছু না কিছু খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। বাইরে থেকে বাড়িতে আসলে ছোট বাচ্চাদের মতো ওরা আমার কাছে দৌড়ে যায় এবং কিছু চায়! এভাবেই চলছিলো দিন।
দুই.
২৭ মে ২০২০, বুধবার। দুপুর ১২টা বেজে ৩০ মিনিট। কুকুরগুলো একটি জায়গায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো। আমি বাড়ির কিছু কাজ ছেড়ে এমনিতে তাদের কাছে গেলাম। আমার উপস্থিতিতে তারা ওঠে দাড়ালো এবং 'হা' করে তাকিয়ে রইলো। আমি বসে পড়লে, তারাও একে অন্যের পাশাপাশি বসে পড়লো। মা কুকুরটি চার সন্তানকে বেশ আগলে রাখলো এবং একে একে সবগুলোকে আলিঙ্গন শুরু করলো। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকালাম। দেখলাম, সন্তানদের প্রতি মা কুকুটির স্নেহময় ভালোবাসা।
হয়তো সে জানতো, এটাই তার শেষ আলিঙ্গন! বাচ্চা চারটিও মাকে আবৃত করে রেখেছে এবং প্রশান্তি মনে শেষবারের মতো মায়ের স্নেহ-মায়া নিয়ে নিচ্ছে! তাদের এই আবেগঘন মুহূর্ত অবলোকন করে ভাবলাম, পশুপাখির মধ্যেও আবেগ-ভালোবাসা প্রচণ্ডভাবে আছে। আমি নিজেও জানতাম না এবং জানার কথাও না যে, একটু পর মা কুকুরের মৃত্যুর খবর আসছে! কিছু সময় তাদের এ মুহূর্ত উপলব্ধি করে আমি আমার কাজে চলে গেলাম।
তিন.
বিকাল ৩টা। হযরত মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ দামাত বারাকাতুহুম এর তুরস্কের সফরনামা 'তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে' বইটি পড়ছি। হঠাৎ আমাদের বাড়ির উত্তর দিক থেকে বেশ কিছু মানুষের হৈ চৈ শুনলাম। দু'তলা থেকে তাড়াহুড়ো করে নিচতলায় নামলাম। ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ওখানে কী হয়েছে? সে জানালো, আমাদের বড় কুকুরটিকে মেরে ফেলে ওরা পানিতে ফেলে দিয়েছে। আমি