সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


‘গীবত করবেন না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ।।

হে মুসলিম ভাই! আপনাকে গীবত থেকে বাঁচতে হবে। পর নিন্দা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কারও সমালোচনা করবেন না। কারও নিন্দা করবেন না। ইমাম নববী রহ. বলেন, ‘প্রত্যেক মুকাল্লিফ তথা যাদের ওপর শরী‘আতের হুকুম আহকাম আরোপ হয়, তাদের কর্তব্য হলো যবান হিফাযত রাখা। একদম চুপ থাকা চাই। তবে যদি কোনো কথা বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে পুণ্যের কথা। নেকের কথা। যে কথায় আল্লাহ খুশি হন। রাসূল সন্তুষ্ট হন। আর অনর্থক কোনো কথা বলা যাবে না। কেননা তা হারামের দিকে, মিথ্যার দিকে, অসত্যের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু এই অভ্যাসই মানুষের বেশি। যবান মানুষকে টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে হারাম পথে, মিথ্যার দিকে, অসত্যের দিকে কিন্তু তার কোনো খবরই নেই। সে চোখে দেখেও দেখে না। বুঝেও বুঝে না।’

গীবত করা একটি নিকৃষ্ট অভ্যাস। ঘৃণিত কাজ। যে গীবত করে, অপরের দোষ তালাশ করে বুঝতে হবে তার অন্তরটা পচা। পচে পচে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আর সেই দুর্গন্ধই হলো অপরের দোষ তালাশ করা। আমাদের পেয়ারা রাসূলও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

‘হযরত আবূ হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কোনো বস্তু বা ব্যক্তি সম্পর্কে কুচিন্তা থেকে বেঁচে থাক। কেননা কুচিন্তা হলো সবচেয়ে মিথ্যা কথা। কারও খারাপ বা দোষের খবর জানার চেষ্টা করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না। পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রæতা রেখো না। আর পরোক্ষ নিন্দাবাদে একে অপরের পিছনে লেগো না; বরং তোমরা সকলেই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থাকবে।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৬৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৬৩)

আল্লাহ তা‘আলাও গীবতের নিন্দা করে কুরআন শরীফে আয়াত নাযিল করেছেন। আল্লাহ বলেন,
‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজের পরিবার ও অন্য কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, শুধু শুধু ধারণা থেকে বিরত থাকো। কিছু কিছু ধারণা গুনাহের কারণ। আর মিথ্যা ধারণা করলে তো শাস্তি নির্ধারিত আছেই। আর শোনো, কোনো মুসলামানের দোষ-ত্রæটি তালাশ করো না। কারও গোপন বিষয়ের তালাশে পড়ো না। আর কারও এমন বিষয় আলোচনা করো না, যা তার কানে গেলে সে অসন্তুষ্ট হয়। আচ্ছা বলো তো, তোমাদের মধ্যে কেউ কি এমন আছে, যে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে খুব পছন্দ করে? সুতরাং যেমনি ভাবে তোমাদের স্বভাব-সুরুচি বোধ তোমাদেরকে এই বিষয়টি বাধা দেবে, তেমনিভাবে তোমাদেরকে শরী‘আতও কোনো মুসলামান ভাইয়ের গীবত করতে বাধা দেয়। মানুষ তো মুসলমান ভাইয়ের গোস্ত খাবে না, তার ভাই হওয়ার কারণে, আর মৃত হওয়ার কারণে, তাহলে এর থেকে আরও বেশি তার অপছন্দ হওয়া দরকার মুসলমান ভাইয়ের নিন্দা করা। এখন তোমাদের কাজ হলো, কারও গীবত করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা। আর ভয় করা পরকালের কঠিন আযাবকে।’ (সূরা হুজরাত ১২, ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ)

সুতরাং প্রত্যেক কথা, কথার আকার-ইঙ্গিত, অথব