আবদুল্লাহ আফফান।।
গত ১৭ জুন বুধবার উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারীর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি মজলিসে শুরার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তিনটি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এর অন্যতম ছিল, দারুল উলূম হাটহাজারীর সহযোগী পরিচালক পদ থেকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে সরিয়ে আল্লামা শেখ আহমদকে স্থলাভিষিক্ত করা।
তরুণ আলেম ও ছাত্রসমাজ বিষয়টির সমালোচনা করলেও আল্লামা শেখ আহমদকে ওই পদে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি সুচিন্তিত ও উত্তম সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেক প্রবীণ আলেমগণ।
কিন্তু কে এই আল্লামা শেখ আহমদ? তাঁর সম্পর্কে জানতে কথা হয় ক'জন প্রবীণ আলেমের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, আল্লামা শেখ আহমদকে হয়তো বর্তমান ছাত্ররা কম চিনতে পারে। কারণ তিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে হাটহাজারী মাদরাসায় পড়াননি। কিন্তু নব্বইয়ের দশক ও শূন্য দশকের শুরুর দিকে তিনি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার দরসে হাদিসের সম্রাট। তাঁর কাছে হাদিস পড়া ছিল তখনকার ছাত্রদের অন্যতম স্বপ্ন। তাঁর মেধা ও স্মরণশক্তি ঈর্ষণীয়। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তালিমাত, বোডিংসহ জামেয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তারা আরও জানিয়েছেন, আল্লামা আহমদ শফীর খুবই আস্থাভাজন ব্যক্তি আল্লামা শেখ আহমদ। আল্লামা বাবুনগরী হাটহাজারী নিয়োগের আগে শফী সাহেবের পরে শেখ আহমদকেই পরবর্তী মুহতামিম মনে করা হতো। তখন সেটা প্রসিদ্ধ ছিল। মাদরাসা ও ব্যক্তিগত প্রায় সব কাজেই তিনি আল্লামা শফীর সহযোগী ছিলেন। হয়তো আল্লামা শফী তাঁর সবচেয়ে আস্থাভাজন ব্যক্তির হাতেই আমানত রেখে যেতে চেয়েছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আল্লামা শেখ আহমদ দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য অনেক কওমি মাদরাসার শূরা সদস্য (পরিচালনা কমিটির সদস্য) এবং শীর্ষ আলেমদের শিক্ষক।
এমনকি তিনি হাটহাজারী মাদরাসার বর্তমান চাকরিরত দু-তৃতীয়াংশ শিক্ষকদের শিক্ষক। তিনি আল্লামা আহমদ শফীর বিশেষ খলিফা।
এক নজরে আল্লামা শেখ আহমদ
আল্লামা শেখ আহমদ ১৯৫০ সালে হাটহাজারীর দক্ষিণ মীরেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শুরু থেকে দাওরা পর্যন্ত তিনি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষ করে হাটহাজারী মাদরাসাতেই তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। দীর্ঘকাà