আওয়ার ইসলাম: বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পেছনে নয়টি কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ করেছে নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। আর সংবাদ সম্মেলনে বললেন, নৌ দুর্ঘটনায় কারো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে হত্যা মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঢাকা সদরঘাটের কাছে নৌযানের বার্থিং বন্ধ করা, খেয়াঘাট সরিয়ে নেওয়া, ভয়েজ ডিক্লারেশন বাধ্যতামূলক করা, নৌযানের গতি সীমা নির্ধারণ, পুরনো ধাঁচের লঞ্চ তুলে দেওয়া, লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত টিকেট বিক্রি বন্ধ করা এবং শাস্তি বাড়িয়ে নৌ আইন যুগোপযোগী করার সুপারিশ রয়েছে সেখানে।
২৯ জুন বুড়িগঙ্গায় মর্নিং বার্ড লঞ্চে ধাক্কা দেয় ময়ূর-দুই। এতে পানিতে ডুবে মারা যায় ৩৪ জন। অবহেলাজনিত মামলায় ময়ূর-দুইয়ের সুপারভাইজার আব্দুস সালাম গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এই ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ দুটি আলাদা কমিটি গঠন করে। তাদের তদন্তে কি বেরিয়ে এসেছে জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, পুলিশ ময়ূর-দুইয়ের গাফিলতির প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হবে। মন্ত্রী আরো জানান, বুড়িগঙ্গায় সদরঘাটের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সব ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন লঞ্চও বন্ধ করে দেয়া হবে।
ভবিষ্যতে নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটি যে ২০ দফা সুপারিশ করেছে:
১. সদরঘাট থেকে ভাটিতে সাত থেকে আট কিলোমিটার এবং উজানে তিন থেকে চার কিলোমিটার অংশে বার্থিং উঠিয়ে দিতে হবে। ওই অংশে পন্টুন ছাড়া কোথাও নৌযান নোঙ্গর করে রাখা যাবে না। নদীর ওই অংশ থেকে পর্যায়ক্রমে শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড উঠিয়ে দিতে হবে।
২. সদরঘাট টার্মিনালের আশপাশে কোনো খেয়াঘাট রাখা যাবে না। ওয়াইজঘাটের উজানে খেয়াঘাট স্থানান্তর করা যেতে পারে।
৩. লঞ্চের সামনে, পেছনে, মাস্টার ব্রিজে, ইঞ্জিন রুমে, ডেকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। মাস্টারের দেখার সুবিধার জন্য ব্যাক ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া লঞ্চে পর্যায়ক্রমে ওয়াকি-টকি ব্যবহার চালু করতে হবে।
৪. লঞ্চ বা জাহাজ ঘাট ত্যাগ করার আগেই ভয়েজ ডিক্লারেশন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে হবে। লঞ্চে কতজন যাত্রী বহন করা হচ্ছে, ডেক সাইডে এবং ইঞ্জিনে কারা কারা কর্মরত, তা ভয়েজ ডিক্লারেশনে উল্লেখ করতে হবে।
৫. ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক লঞ্চে জীবন রক্ষাকারী লাà