সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


কুরবানিতে প্রচলিত কিছু ভুল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি জাবের কাসেমী।।

মুফতি ও মুহাদ্দিস

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কোরবানির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে অনেকে বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছেন।আমাদের দেশে বহুলোক প্রতি বছর কোরবানি করে থাকেন। ইসলামের অন্য অনেক আমলের মতো কোরবানিও মানুষ স্বউৎসাহে আদায় করেন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো এক্ষেত্রে অনেকে বিভিন্ন ভুল করে থাকেন। যার দরুন সোয়াব তো দূরে থাক তাদের কোরবানি বিশুদ্ধই হয় না। এজন্য কোরবানির কিছু ভুল দিক নিয়ে লেখা হলো আজ।

১. কোরবানির ব্যাপারে নিজের ধ্যান- ধারণা পরিস্কার রাখা
কোরবানির ব্যাপারে দু ধরনের ধারণা পাওয়া যায়।। একটি ইসলামি ধারণা। অপরটি জাহেলী ধারণা। জাহেলী ধারণা হলো, কোন মূর্তি বা দেব-দেবীর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা। কিংবা জিন-শয়তান ও কোন অশুভ শক্তির আকস্মিক অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাদের নামে কোন কিছু উৎসর্গ করা। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার, শিরক ও হারাম। ইসলাম ধর্মে এর কোন সুযোগ নেই। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের পূর্বে আরবে বিভিন্ন প্রতিমার নামে পশু উৎসর্গ করার প্রথা ছিলো। ইসলাম আসার পর এসবে নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাব্বুল আলামিন কুরআন শরিফে বলেন, “আল্লাহ তাআলা বাহিরা, সায়েবা, ওসীলা, ও হামীকে শরীয়তসিদ্ধ করেননি।” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ১০৩)

ক) বাহিরা: ঐ প্রাণী যার দুধ প্রতিমার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হতো। খ) সায়েবা: প্রতিমার নামে উৎসর্গ করা সে উটনী যার উপর সাওয়ার হওয়া, পশম কাটা, দুধ পান করা নিষেধ।

গ) ওসীলা: ঐ বকরী যা প্রতিমার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হতো। ঘ) হামী: প্রতিমার উদ্দেশে ছেড়ে দেয়া পুরুষ উট।

ইসলাম জাহেলী যুগের এসব কু-প্রথাকে বিলোপ করে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছে। আর ইসলামি ধারণার কোরবানির অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য শরীয়ত নির্দেশিত পন্হায় শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কোন প্রিয় বস্তু আল্লাহ তাআলার দরবারে পেশ করা ও শরীয়ত নির্দেশিত পন্হায় তার ব্যবহার করা। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, “তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো ও কোরবানি করো।” (সূরা কাউছার, আয়াত: ২) এ আয়াতে নামাজ ও কোরবানিকে এক সঙ্গে উল্লেখ করে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নামাজ যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে পড়া যায় না; কোরবানিও অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা যায় না। এজন্য কোরবানির ক্ষেত্রে আà¦