বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

ময়নামতির শহর কুমিল্লা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম: ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির শহর কুমিল্লা। শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টন্তের নাম কুমিল্লা। প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে এ উপমহাদেশে কুমিল্লার পরিচিতি, নাম ডাকের কথা বলাই বাহুল্য। কুমিল্লার খাদি শিল্প, তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ ও কারু শিল্প, রসমালাই, মিষ্টি, ময়নামতির শীতল পাটি ইত্যাদি ঐতিহ্যে ভরে আছে কমিল্লা। কালের বিবর্তনের ধারায় এসেছে অনেক কিছুর পরিবর্তন। অনেক কিছু আবার হারিয়ে ও গেছে, তবে হারায়নি এখানকার মানুষের আন্তরিকতাপূর্ণ আতিথেয়তা ও সামাজিক সম্প্রীতি। কুমিল্লা একসময় বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ১৭৩৩ সালে বাংলার নবাব শুজাউদ্দিন ত্রিপুরা রাজ্য আক্রমণ করে এর সমতল অংশ সুবে বাংলার অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৭৬৫সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কুমিল্লা দখল করে। ১৭৯০ সালে কোম্পানী শাসনামলে ত্রিপুরা নামের জেলার সৃষ্টি। ১৯৬০ সালে এই জেলার নাম করা হয় কুমিল্লা। যে কোনো দেশ ও জাতির গৌরবময় পরিচয় চোখের সামনে বাস্তব করে তোলে কালের সাক্ষী হয়ে নীরবে জেগে থাকা প্রাচীন প্রত্ন স্থাপনা। বাংলাদেশের প্রত্নস্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন শহর কুমিল্লা। প্রত্নস্থাপনাগুলোর অধিকাংশই কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী স্থান ময়নামতিতে।

কুমিল্লা শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে কোটবাড়ি বা ময়নামতি অবস্থিত। মধ্যযুগে বৌদ্ধ রাজত্বের রাজধানী ছিল এটি। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা মানিকচন্দ্রের স্ত্রী রাণী ময়নামতির নামানুসারে এই অনুচ্চ পাহাড়ি এলাকার নাম রাখা হয় ময়নামতি। আবার এই কথা ও প্রচলিত আছে, কোন এক রাজার দুটি মেয়ে ছিল। একজনের নাম লালমতি অন্যজনের নাম ময়নামতি। তাদের নামেই দুটি স্থানের নামকরণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ ধারণা করেন। বিপুল প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে এখানে। শালবন বিহার, আনন্দবিহার প্রভৃতি বৌদ্ধ সংস্কৃতির ধ্বংসাবশেষ আছে ময়নামতিতেই। ১৯৫৫ সালে এসব নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায়। বৌদ্ধধর্ম ছাড়াও এখানে জৈন ও হিন্দু দেবদেবীর মূর্তিও রয়েছে। নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের জন্য রয়েছে একটি জাদুঘর। ময়নামতি এলাকা লালমাই ও হিলটিয়া নামেও পরিচিত।

উল্লেখযোগ্য কিছু স্থাপনা
শালবন বৌদ্ধ বিহার
অসাধারণ সৌন্দর্যে ইতিহাস লালিত করে শালবন বৌদ্ধ বিহার। শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। লালমাই-ময়নামতি প্রতœস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনার একটি এই বৌদ্ধ বিহার। এটি ১২শ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান। বিহারটির আশপাশে একসময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। এখনতো সাজিয়ে অনেক সুন্দর পরিপাটি করা। গেলেই মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়।