সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


মূর্তি ভাস্কর্য বিষয়ে যা বললেন মুফতি আবদুল মালেক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আবদুল মালেক।।

জনাব হুমায়ুন আহমেদ-এর ‘এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব’ শীর্ষক নিবন্ধটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিবন্ধকার ঢাকা বিমানবন্দরের অদূরে, হাজী ক্যাম্পের সামনে থেকে লালন ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার কারণে সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে হাদীস ও সীরাতের কিছু উদ্ধৃতি এবং কতিপয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, ভাস্কর্য ইসলামে নিষিদ্ধ নয়; বরং বৈধ ও অনুমোদিত।

নিবন্ধকার যদি ভাস্কর্য শিল্প সম্পর্কে তাঁর নিজের মত বা সতীর্থ বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য উল্লেখ করতেন তবে আমাদের বিশেষ কিছু বলার ছিল না। কিন্তু তিনি ইসলামী আকীদা ও বিধানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং খাতামুন্নাবিয়ীন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে সম্পূর্ণ অসত্য কথা বলেছেন। তাই এই বিষয়ে কলম ধরাকে আমরা ঈমান ও আমানতের দাবি বলে মনে করি।

وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت وإليه أنيب.

তিনি প্রথমে যে (অবাস্তব) ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন তা তার ভাষায় এই: আমাদের মহানবী (সা.) কাবা শরীফের ৩৬০টি মূর্তি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেয়ালের সব ফ্রেসকো নষ্ট করার কথাও তিনি বললেন। হঠাৎ তার দৃষ্টি পড়ল কাবার মাঝখানের একটি স্তম্ভে, যেখানে বাইজেন্টাইন যুগের মাদার মেরির একটি অপূর্ব ছবি আঁকা। নবীজী (সা.) সেখানে হাত রাখলেন এবং বললেন, ‘এই ছবিটা তোমরা নষ্ট করো না।’ কাজটি তিনি করলেন সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর অসীম মমতা থেকে। মহানবীর (সা.) ইন্তেকালের পরেও ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ খলিফাদের যুগে কাবা শরীফের মতো পবিত্র স্থানে এই ছবি ছিল, এতে কাবা শরিফের পবিত্রতা ও শালীনতা ক্ষুণ্ণ হয়নি।

মহানবীর (সা.) প্রথম জীবনীকার ইবনে ইসহাকের (আরব ইতিহাসবিদ, জন্ম : ৭০৪ খৃষ্টাব্দ, মদীনা, মৃত্যু : ৭৬৭ খৃষ্টাব্দ, বাগদাদ) লেখা দি লাইফ অব মোহাম্মদ গ্রন্থ থেকে ঘটনাটি বললাম। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটি অনুবাদ করেছেন আলফ্রেড গিয়োম (প্রকাশকাল ২০০৬, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫৫২)’’

পর্যালোচনা: এটি একটি অসত্য বর্ণনা। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাত যাদের অধ্যয়নে এসেছে এবং প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি ও তার ব্যবহার সম্পর্কে তাঁর ফয়সালা যারা অবগত আছেন তারা নিজেরাই এ মিথ্যাচার বুঝতে পারেন। তদ্রূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করà