সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


সালাম: হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তির পয়গাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মো: আবু সালেহ্।।

সালামের অর্থ ও সংজ্ঞা

সালাম ( سلام‎) একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ- শান্তি, প্রশান্তি কল্যাণ, দোআ, আরাম, আনন্দ, তৃপ্তি। সালাম একটি সম্মানজনক, অভ্যর্থনামূলক, অভিনন্দনজ্ঞাপক, শান্তিময় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামী অভিবাদন পদ্ধতি।

‘আস্-সালাম’ আসমাউল হুসনা তথা, আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নাম এবং জান্নাতের নামসমূহের মধ্যে একটি জান্নাতের নামকরণও করা হয়েছে এই একই নামে।

সালামের যতো ফজিলত:

সালাম একটি সুন্নত আমল। একটি শান্তির বারতা। হৃদ্যতাপূর্ণ অভিবাধন। প্রতি দিনের সম্বোধন। প্রতিক্ষণের সম্প্রীতি। মুমিন মানেই সালামের আমল। ইসলামের যতগুলো সুন্দর দিক আছে; যতগুলো সৌন্দর্য্য ইসলামকে সৌন্দর্য্যমন্ডিত করেছে, তার অন্যতম একটি হল সালাম। সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুমগণের পক্ষ হতে রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, ইসলামের কোন আমল সর্বোত্তম? জবাবে শন্তির বার্তাবাহক রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'অভাবীদের পানাহার করানো, আর পরিচিত অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।' -আবু দাউদ- ৫১৯৬

বুখারী শরিফের অন্য এক হাদিসে বর্নিত হয়েছে- 'তিনটি জিনিস যে ব্যক্তি একত্রিত করতে পারবে সে ঈমান একত্রিত করল, (১) নিজের ব্যাপারেও ইনসাফ করা, (২) জগতের সকলকে সালাম দেওয়া, আর (৩) অল্প সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা থেকে ব্যয় করা।' -বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১/৮২, নং ২৮; আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকূফ ও মু‘আল্লাক হিসেবে।

সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে সমাজে প্রবাহিত করা সম্ভব শান্তির স্নিগ্ধ সমীরণ। সালামের আমল দ্বারা সমাজের সকলের মাঝে পারস্পারিক শান্তি, সৌহার্দ্য ও হৃদ্যতা ভালোবাসার প্রাসাদ নির্মান করা সম্ভব। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জীবনে বাস্তবে আমল করে দেখিয়ে তার দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তিনি এই আমলটিকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে, কেমন জানি পরস্পর ভালোবাসার মানদন্ডই নির্ধারণ করেছেন সালামের আদান প্রদানকে। হযরহ আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أو لا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم» رواه مسلم.

'তোমরা কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করো, আর ততক্ষন পর্যন্ত তোমরা ঈমানকে পরিপূর্ণ করà