রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩০ রবিউস সানি ১৪৪৮


দেওবন্দিয়াতের মিশনই ছিলো আল্লামা কাসেমী রহ. এর মিশন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আতাউর রহমান মারুফ: লেখাটি ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ৬ তারিখে লেখা। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ. এর দ্বীনের প্রত্যেক লাইনে কাজ করার একটি সরেজমিন প্রতিবেদন। আজ হুজুর নেই আমাদের মাঝে। স্মৃতি হিসেবে লেখাটি আবারো নজরে ছানী করলাম।

দ্বীনের বহুমুখী খেদমাতের একজন রাহবার। আজকের গল্প একজন হামাগেরি ফিকিরমান্দ ব্যক্তিত্বকে ঘিরে। আকাবিরে দেওবন্দের এক দীপ্তমান প্রতিচ্ছবিকে ঘিরে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সে ব্যক্তি। ধরে ধরে হাঁটাতে হয় তাঁকে। হুইলচেয়ারে করেও কভু দেখা যায়। এই দৃশ্যটা রাজপথ খুব ভাল করে দেখেছে। পল্টন এলাকার রাস্তাগুলোর যদি ব্যক্তিগত ডায়েরী থেকে থাকে তবে হয়তো তাদের সবচে’ দামি কলমটা দিয়েই এই বীরের গল্পটা লেখে রাখবে। গল্পের সেই মহানায়কের নাম ‘নূর হুসাইন কাসেমী’। একটি চেতনাময় আলোকবর্তিকা। প্রেরণাময় গুল-বাগিচা।

হজরতের ব্যাপারে কম আর বেশি সবাই অবগত যে, তিনি দ্বীনের সকল লাইনে কাজ করার জন্য সর্বদা সবাইকে উৎসাহিত করতেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেও শরিক থাকতেন। নিজ কানে বহুবার তাঁকে বলতে শুনেছি যে, ‘তুমি যেই লাইনে দ্বীনের কাজ করছো সেটাই দ্বীন, এমন বলবেনা; বরং বলবে এটাও দ্বীন’। নিজে এক জায়গায় জমে থেকে কাজ করবে। অপরদের সাধ্যমত সহায়তা করবে। সমর্থন দিবে।

বহুদিনের ন্যায় গতকালও (০৫.০৭.১৮) দেখলাম হজরতকে একটি কর্মমুখর দিন অতিবাহিত করতে। বাদ ফজর টু রাত দশটা। তবে এই দিনটায় লক্ষ করলাম বড় এক বিষয়! একদিনে চতুর্মুখী কাজ! এবং অনেকটা শারিরীক অংশগ্রহণেই !

তালীম তরবিয়ত

বাদ ফজর আল্লামা কাসেমী মাদরাসা থেকে বের হলেন। চলে গেলেন সাভারের হরিণধরা মাদরাসায়। সবকের ইফতেতাহ করলেন। তারপর মিরপুর মাদরাসাতুল ইহসানেও সবকের ইফতেতাহ করলেন। উত্তরার রাওজাতুস সালিহাত মহিলা মাদরাসায়ও সবকের ইফতেতাহ করলেন। এভাবে আরোও বেশ কটি মাদরাসায় সবকের ইফতেতাহ্ শেষে জোহর বাদ ফিরে এলেন বারিধারায়।

ইসলামী সিয়াসাত

দুপুরে সামান্য বিশ্রাম সেরেই হজরত রওয়ানা করলেন পল্টনের উদ্দেশে। জমিয়ত কার্যালয়ে। কেন্দ্রীয় ছাত্র জমিয়তের কাউন্সিল ছিলো সেদিন। প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন। ছাত্র সমাজকে সঠিক ইসলামী সিয়াসাত করার প্রেরণা দিলেন। দেশ-জাতীর ক্রান্তিলগ্নে ছাত্র জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এখলাসের সাথে কাজ করে যাওয়ার আদেশ দিলেন। পরে বিকাল চারটার দিকে মাদরাসায় ফিরে আসলেন।</