আবদুল্লাহিল বাকি।।
গিয়েছিলাম শুক্রবার মাহাদুল ফিকরি ওয়াদ দিরাসাতিল ইসলামিয়ার কম্পারেটিভ রিলিজিওন কোর্সের ক্লাসে। ক্লাস করিয়েছেন ওস্তাদ মুসা আল হাফিজ। তিনি যেন ক্লাস করান না, প্রতিটি ছাত্রের মস্তিষ্কে গুঞ্জন তুলে দেন চেতনার পংক্তিমালার।
এটা ছিল বাইরের ছাত্রদের জন্য তার পক্ষ থেকে ঢাকায় দ্বিতীয় কোর্স। প্রথম কোর্স হয়েছিল গত ২৫ অক্টোবর ২০১৯ এ। এবারের মতোই তিন মাসব্যাপী। তখনো তিনি চিরাচরিত গতানুগতিক ঐতিহ্যবাহী ধারায় অভ্যস্ত ছাত্রদের মস্তিষ্কে প্রোথিত করে দিয়েছিলেন উত্থানের স্বপ্নময় বীজ। বাতলে দিয়েছিলেন ঐতিহ্যের জারিত রসে ভবিষ্যতকে উজ্জল সিক্ত করবার পথ ও পাথেয়। সেই মূল্যবান মুখ নিঃসৃত কথামালা অনুলিখনের মাধ্যমে প্রকাশের আলো দেখেছে ‘দুঃসময়ের বধ্যভূমিতে উত্থানের চাষাবাদ’।
ওস্তাদ সাধারণত নিজের বই পড়ার সাজেস্ট করেন না। কিন্তু বুভুক্ষ মেধার চেতনার খোরাকের জন্য সকলের হাতে তুলে দিলেন এই বই এবং অধ্যয়ন করতে বললেন।
এই গ্রন্থে তিনি তুলে ধরেছেন সোনালী ঐতিহ্যের স্তুতিগাঁথা। ক্রন্দন করেছেন বর্তমানে মুসলমানদের জাতিগত অভ্যন্তরীণ পচন এবং বাহ্যিক পতনের দরুন। সাথে সাথে দেখিয়ে দিয়েছেন ঐতিহ্যের অভিজ্ঞতায় আলোকিত হয়ে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করার আর্কিটেকচার।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন হিসেবে এর সামগ্রিক ক্ষেত্রগুলোতে উদ্যমের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইসলাম একটি প্রাণশক্তির নাম। এটা যখন কোথাও আসে, সমগ্র জীবনকে জাগ্রত করে, প্রদীপ্ত করে, ঊর্ধ্বগামী করে, শেকড়যুক্ত করে এবং বিকশিত করে। জীবনের যা শক্তি, যা সৌন্দর্য, যা আবেদন—সবকিছুই পেখম মেলে একই সাথে। ... তো আমাদের অনেকেই মনে করি যে, কতিপয় দায়ী তৈরি হয়ে গেলে আমাদের সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। কতিপয় আলেম যদি তৈরি হয়ে যান, সব ঠিক হয়ে যাবে। আসলে ইসলামের দাওয়াতের ইতিহাস যদি আমরা দেখি, দ্বীনি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ইতিহাস যদি দেখি, তাহলে দেখবো সবগুলো শাখায় একসাথে কাজ করা হয়েছে। এটা একটা মৌলিক পয়েন্ট।” (২০ পৃ.)
এই বইয়ে তিনি তুলে ধরেছেন এসব প্রশ্নের উত্তর “প্রকৃতপক্ষে দ্বীনি জাগরণ বলতে কী বুঝায়? দৃষ্টিভঙ্গির মেরামত করতে হবে এবং তা কিভাবে করতে হবে? আপনাদের লক্ষ্য কী এবং কেমন হবে? কিভাবে কাজ করতে হবে? তার দিকনির্দেশনা কেমন? যুগ