শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ।।
প্রত্যেক প্রাণীরই একটি নিজস্ব ভাষা রয়েছে,যে ভাষায় সে মনের ভাব প্রকাশ করে,যার দ্বারা সে দৈনন্দিন সকল কার্য্য সম্পাদন করে৷ তা আবার কেউ ইশারা-ইঙ্গিতে, কেউ আওয়াজ দিয়ে এবং কেউ ধ্বনি বা সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে প্রকাশ করে ৷সৃষ্টির সূচনা থেকে আজ অবধি এভাবেই একে অন্যের সাথে ভাবের আদান-প্রদান চলছে এবং চলতে থাকবে। কিন্তু আদম সন্তানের ভাষা ও মনের ভাব প্রকাশের ধরন বা নমুনা অন্যান্য প্রাণী থেকে ভিন্ন,এটি তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ।যাদের রয়েছে নিজস্ব বাকশক্তি, অঞ্চলবেদে ভাব প্রকাশের ভিন্নতা৷
মহান আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানকে ভাষার শিক্ষা দিয়েছেন পরোক্ষভাবে, অন্যের সাহায্যে আর আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-কে তিনি ভাষা শিখিয়েছেন প্রত্যক্ষভাবে, অকৃত্রিম উপায়ে। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ আদমকে শেখালেন সব বস্তুসামগ্রীর নাম।’ (সুরা বাকারা : ৩১)
আদিকালে মানুষেরা কথা বলতো ইশারা-ইঙ্গিতে,প্রথমে উদ্ভূত শব্দ তারপর ধ্বনি বা আওয়াজ সৃষ্টি করে মনের ভাব প্রকাশ করতো। আর এভাবেই একের পর এক ধ্বনির সংযোগ, আওয়াজের সমন্বয় অতঃপর ধীরে ধীরে ভাষা সৃষ্টি ও আবেগে কথা বলার চর্চা সর্বশেষ ভাষার উৎপত্তি।
মাতৃভাষা মাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ।একটি শিশু পূর্ণাঙ্গ শিশু হিসেবে জন্মলাভের আগ থেকেই তার মধ্যে মাতৃভাষার ভিত্তি রচিত হতে থাকে, মস্তিষ্কে কোষের সঞ্চালন ও গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যে শিশুটির জন্ম নিতে যাচ্ছে তার সঙ্গে মায়ের চিন্তা ভাবনা আবেগ-অনুভূতির মিশ্রন ও আত্মিক সংযোগ স্থাপিত হয়। শিশু জন্মের পর থেকে দেখে মা তার সঙ্গে কথা বলছে । মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে বুঝতে পারে মায়ের কোন কোথায় সে হাসবে এবং মায়ের কোন কথায় থাকে আনন্দ দেয়ে,কোন কোথায় সে আপত্তি জানাবে তাও সে বুঝতে পারে।এভাবে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে হৃদ্ধতার সম্পর্ক,মাতৃত্বের ভালোবাসা, ভাবের আদান-প্রদান।শিশু কথা বলা শেখার আগ থেকেই কার্যত মনের বিভিন্ন ভাবাবেগ ধ্বনির মাধ্যমে প্রকাশ করতে থাকে।এভাবেই তার মাতৃভাষার প্রীতির প্রকাশ ও মায়ের ভাষাতেই একের পর এক কথা বলার সূচনা।
মানুষের সাথে মাতৃভাষার সম্পর্ক প্রাকৃতিক ও স্বভাবজাত। তাই মানুষ মাতৃভাষার সাহায্যে যত সহজে আপন মনোভাব প্রকাশ করতে পারে তা বিদেশি ভাষার সাহায্যে ততটুকু সম্ভব হয় না।তাই ইসলাম মানুষের এ স্বভাবজাত ধর্মের প্রয়োজনীয়তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করেছ