সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

আবু কুদামার মুখে এক শহিদের গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কাওসার আইয়ুব

এক.

ছেলেটি ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছে। ঘুমে বিভোর। আমি কী যেনো ভেবে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। আচমকা দেখি, ঘুমের মাঝেই মিটমিট হাঁসছে। আমি কিছুটা হকচকিয়ে গেলাম। অন্য মুজাহিদেরও দৃশ্যটি দেখিয়েছি। সে ঘুম ভেঙ্গে উঠেছে। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গেছে। ক্ষাণিকবাদে জিজ্ঞেস করি, আচ্ছা! তুমি ঘুমের ভেতর হেঁসে ওঠলে যে? ছেলেটি কথা ঘুরিয়ে অন্য কথা বলতে চাইলো। আমরা নাছোর বান্দা, হাঁসির কারণ না শুনে যাবো না। আমাদের এটা জানতেই হবে।

অবশেষে তাকে স্বপ্নের কথা বলতেই হলো।

-দেখি, স্বর্ণ-রোপা খচিত বিশাল অট্টালিকা। মনোরম পরিবেশ। তাকালে চোখ লেগে থাকে। আমি ওদূরে দাঁড়িয়ে এসব দেখছি। তখনি প্রাসাদের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এক দল মেয়ে। বয়সে তরুণ। উজ্জ্বল চেহারা। পরনে সাদা পোশাক। আমাকে দেখে মুচকি হাসছে। কিছুটা আনন্দিত ওরা।

-ঐ মার্জিয়ার স্বামী! মার্জিয়া উপরে আছে। একটি মেয়ে ডেকে বলছে।

আমি ওদের কথা মতো প্রাসাদের উপরে উঠি। তলা বিশিষ্ট প্রাসাদ। হরেক রকম সুভাস মাখা ফুলের ঘ্রাণ। মনোরম পরিবেশ। ফটকের ভেতরে সুসজ্জিত কামরা। খাটের উপর বসে আছে এক তরুণি। মখমলের বিছানায় যেনো চাঁদের টুকরা। জলমলে চেহারা। আমি তার কাছে যেতে চাইলাম। মুসকি হেসে বললো- না, এখনো কাছে আসার সময় হয়নি। ধৈর্য ধরো। আর একটা দিন। কাল দুপরে আমাদের সাক্ষাৎ হবে। এরপরই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।

দুই.
আবু কুদামা রাহিমাহুল্লাহ একজন বীর মুজাহিদ। জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছে জিহাদের ময়দানে। রোমানদের বিরুদ্ধে তার বিরত্বগাঁথা যুদ্ধ ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

একবার তিনি মসজিদে নববিতে বসা। বন্ধুদের নিয়ে গল্প করছেন। বন্ধুরা তাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বললো- তুমিতো সারাটা জীবন জিহাদের ময়দানে কাটিয়ে দিলে। অনেক জিহাদ করেছ জীবনে , আজ আমাদেরকে যুদ্ধের একটি ঘটনা শুনাবে? এমন একটি গল্প শুনাও যা তোমাকে অনেক বেশি বিস্মিত করেছে?

আবু কুদামা বললেন, আচ্ছা! শুনো তাহলে, একবার আমরা রোমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে রওনা করি। ফুরাত নদীর তীর ঘেঁষা ‘দিনা’ বসতির পার দিয়ে যাচ্ছি। মাঝপথে উট ক্রয় করতে অল্প সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেই।

আমাদের খবর পেয়ে এক নারী ছুটে আসে। সালাম করে বলে; আমার আদুরে স্বামী ছিলো, ছিলো প্রাণের কয়েকটি ছেলে। জিহাদের ময়দানে শাহিদ হয়ে গেছে সবাই। কয়েকজন ভাইও ছিলো আমার, জিহাদের ময়দানে জান্নাতি যুবকের কাতারে নাম লিখিয়েছে।

এখন আমি দুই ইয়াতিম সন্তানের মা।